১৩ বছরের অপেক্ষা, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে কামদুনির পরিবার
বুধবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন নিহত কলেজছাত্রীর মা ও ভাই
Truth of Bengal: দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা, ন্যায়বিচারের দাবিতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন নিহত কলেজছাত্রীর মা ও ভাই। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কামদুনি আন্দোলনের দুই পরিচিত মুখ মৌসুমি কয়াল এবং টুম্পা কয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। পরিবারের কথা শোনার পর শুভেন্দু আশ্বাস দেন, কামদুনির নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পাবেন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলায় রাজ্য সরকার পরিবারের বিরোধিতা করবে না। বরং রাজ্যের আইনজীবীরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করবেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কামদুনি মামলার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘কামদুনি ফাইলস’ ফের খোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন নির্যাতিতার মা ও ভাই। দীর্ঘদিন ধরে যে বিচার অধরা ছিল, এবার তা মিলবে বলেই আশা করছেন তাঁরা। ২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে ২০ বছরের এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনা গোটা বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন মৌসুমি কয়াল এবং টুম্পা কয়াল।
ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনিতে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। প্রতিবাদীদের মধ্যে মাওবাদীদের উপস্থিতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন—এমন অভিযোগও উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের দুই মুখ মৌসুমি ও টুম্পাকে রাজনৈতিক চাপ এবং বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মৌসুমি ও টুম্পা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনাই জানেন। কামদুনির আন্দোলন শুধু আমাদের ছিল না, তিনিও এই আন্দোলনের পাশে ছিলেন। দ্রুত কামদুনি ফাইলস খোলা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি।” তাঁদের আরও দাবি, মামলার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের উপরেই নির্ভর করবে। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছে কামদুনির পরিবার। এখন তাঁদের একটাই অপেক্ষা—কবে মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার মিলবে।






