তারাতলা কাণ্ডে হতাহতদের আর্থিক সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর, বিনামূল্যে চিকিৎসা-যোগ্যতা অনুযায়ী কাজেরও আশ্বাস
আহতদের আজীবন ফ্রি ওষুধ, বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ দেবে রাজ্য! তারাতলা কাণ্ডে অগ্নিমিত্রা ও স্মিতাকে বিরাট দায়িত্ব শুভেন্দুর
Truth of Bengal: কলকাতার তারাতলায় ঘটে যাওয়া সেই রোমহর্ষক ও হাড়হিম করা গোডাউন বিপর্যয় কাণ্ডের পর এবার সরাসরি মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্ন বা বিশেষ প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে নিহত ১৬ জন শ্রমিকের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন তিনি। শুধু বড় অঙ্কের টাকাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে বিনামূল্যে আজীবন চিকিৎসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরির মেগা ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত ২৪ জুন দুপুরে কলকাতার তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল একটি বহুতল নির্মীয়মাণ গোডাউন। সেই সময় ভেতরে কাজ চলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন বহু দিনমজুর ও শ্রমিক। পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ (NDRF) এবং ভারতীয় সেনার যৌথ যুদ্ধকালীন অপারেশনের পরেও শেষ রক্ষা করা যায়নি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জন শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি নিহতদের স্বজনদের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
“স্মিতা পাণ্ডে ও অগ্নিমিত্রা পাল ৭ দিনের মধ্যে জানাবেন”, চাকরির দাবিতে সরাসরি নির্দেশ শুভেন্দুর
চেক বিতরণের অনুষ্ঠানে এক মৃত শ্রমিকের অসহায় স্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি কাজের জন্য আরজি জানান। তাঁর আকুল আবেদন শুনে অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই বড় পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সরাসরি দায়িত্ব দিয়ে বলেন, “আপনাদের আমি দায়িত্ব দিচ্ছি, আপনারা আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পুরসভার কোথায় কী কাজের সুযোগ রয়েছে তা দেখে রিপোর্ট দিন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নিহত ও আহতদের পরিবারের অন্তত একজনকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিক পাশ না হলে একটু সমস্যা হতে পারে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।”
বাচ্চাদের পড়াশোনা থেকে আজীবন ফ্রি চিকিৎসা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কড়া বার্তা
এখানেই শেষ নয়, তারাতলার এই অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আরও একাধিক মানবিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় অনাথ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাচ্চাদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। এছাড়া নিহতদের পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক ভাতা দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই বিপর্যয়ে আহত সমস্ত শ্রমিকরা যতদিন না পর্যন্ত ১০০ শতাংশ সুস্থ হচ্ছেন, ততদিন তাঁদের যাবতীয় চিকিৎসা ও জীবনদায়ী ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে স্বাস্থ্য দফতর। মুখ্যমন্ত্রীর এই অল-আউট সহায়তার আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তারাতলা কাণ্ডের ভুক্তভোগীরা।





