রাজ্যের খবর

ডুয়ার্স-পাহাড়ে ৩১৩ কোটির মেগা প্যাকেজ! চা শ্রমিকদের ভাগ্য বদলে শুভেন্দুর ঐতিহাসিক ঘোষণা

চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা: ৭২ কোটির খরচে তৈরি হচ্ছে হাই-টেক চিকিৎসা পরিকাঠামো

Truth of Bengal: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগান, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের চরম দুরবস্থা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই সেই অন্ধকার দিন শেষ করার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে চা শ্রমিক পরিবারগুলির মুখে হাসি ফুটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন। শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “দ্রুত ও সুষ্ঠু অগ্রগতির লক্ষ্যে, আমাদের রাজ্য-স্তরের কমিটি সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’ (PMCSPY) প্রকল্পটির রূপায়ণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা আমাদের চা-শ্রমিকদের জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছি।”

চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা: ৭২ কোটির খরচে তৈরি হচ্ছে হাই-টেক চিকিৎসা পরিকাঠামো

এতদিন চা বাগান এলাকার শ্রমিকদের ন্যূনতম চিকিৎসার জন্য মাইলের পর মাইল ছুটে যেতে হতো। সেই কষ্টের অবসান ঘটাতে এই মেগা প্যাকেজের মধ্যে থেকে ‘চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা’ (CSSSY)-র অধীনে এক ধাক্কায় ৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চা বাগান এলাকাগুলিতে তৈরি হবে আধুনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মিলবে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স এবং উন্নত ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা।

পাহাড়ে ও সমতলে মাথা তুলবে ৩২১টি আধুনিক ‘আশ্রয় যোজনা’ বিশ্রামাগার

চা শ্রমিকদের কাজের মাঝে আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ সুযোগসুবিধা দিতে ‘চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা’ (CSAY)-র অধীনে ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থে উত্তরবঙ্গের চা বলয় জুড়ে মোট ৩২১টি অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্রামাগার বা ক্রেশ রুম নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ৮৮টি এবং ডুয়ার্স ও তরাইয়ের সমতল এলাকায় ২৩৩টি বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই মেগা প্রকল্পের রূপায়ণে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর মূল নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে এবং স্বাস্থ্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করবে। পুজোর আগেই এই প্রকল্পের কাজ মাঠস্তরে নামানোর জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু সরকারের এই রাজকীয় ঘোষণায় কার্যত খুশির বন্যা উত্তরবঙ্গের চা বলয় জুড়ে।

 

Related Articles