Maheshtala: মাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে, মহেশতলায় চাঞ্চল্য
দমকল ও পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন, মেঝেতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন বিজলি ঘোষ।
Truth of Bengal: এক মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে তাঁর ৭০ বছরের মাকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে। মৃতার নাম বিজলি ঘোষ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, মহেশতলা পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সারাঙ্গাবাদ পোড়ার মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ মানুষই ঘরে ছিলেন। এই সময় হঠাৎ করে এলাকায় পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সম্ভবত শর্ট সার্কিট হয়ে এই গন্ধ বেরোচ্ছে। কিন্তু ধীরে ধীরে গন্ধ ও ধোঁয়ার মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপরই এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান বিজলি ঘোষের বাড়ি থেকেই ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বজবজ ফায়ার ব্রিগেড এবং মহেশতলা থানায় (Maheshtala)।
আরও পড়ুন: James Augustus Hicky: কোনও বাঙালি নয়, কোনও ভারতীয় নয়, বঙ্গে প্রথম খবরের কাগজ চালু করেন এক বিদেশি
দমকল ও পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন, মেঝেতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন বিজলি ঘোষ। ঘরের ভিতর নির্বিকারভাবে বসে রয়েছে তাঁর ছেলে সঞ্জয় ঘোষ। বিজলি দেবীকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সঞ্জয় ঘোষ মধ্য পঞ্চাশের ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি প্রায়শই মায়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। প্রতিবেশীরা একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। এমনকি পুলিশও বহুবার এসেছিল। কিন্তু কোনও কিছুতেই তাঁর উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি (Maheshtala)।
Truth of bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/
জানা গিয়েছে, সঞ্জয়ের বাবা মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ ছিলেন একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মী। বহু বছর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই মা বিজলি দেবী একাই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু সঞ্জয়ের মানসিক অসুস্থতা ও অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছিল। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘‘সকাল থেকেই একটা পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমরা বাইরে আসিনি। ওদের ঘরের দরজা-জানলা সবসময় বন্ধ থাকত। কাউকে ঢুকতেও দিত না। ধোঁয়া দেখে আমরা পুলিশে খবর দিই। তারপরেই ঘটনার আসল চিত্র সামনে আসে (Maheshtala)।’’
মহেশতলা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই সঞ্জয় ঘোষকে আটক করেছে এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজলি ঘোষের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সঞ্জয় ইচ্ছাকৃতভাবেই মাকে আগুনে পুড়িয়ে খুন করেছে। তবে খুন, না কি আত্মহত্যা—এই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।






