রাজ্যের খবর

Khepima Puja: নবাব আলিবর্দি খাঁ-র আমলে শুরু হওয়া এই পুজোয় কেন আজও দেবীকে বেঁধে রাখা হয়?

রায় পরিবারের পুজোয় প্রথম থেকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে প্রতিমা বেঁধে রাখার রীতি ছিল না। ১৯৪৩সালে পুজোর সময় ঝড় হয়েছিল।

Truth of Bengal: কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের দুর্গাকে খেপিমা বলে ডাকা হয়।কথিত আছে,স্বপ্নাদেশ পেয়েই পুজোপাঠ শুরু হয়।১৯৭৫সালে নবাব আলিবর্দি খাঁ-র আমলে এই পুজোর সূচনা হয়।রায় পরিবারের পূর্ব পুরুষ ভনানন্দ রায়ই পুজো শুরু করেন।দেবীর প্রতিমার রং রয় শিউলি ফুলের বোঁটার মতো। রায় পরিবারের পুজোয় প্রথম থেকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে প্রতিমা বেঁধে রাখার রীতি ছিল না। ১৯৪৩সালে পুজোর সময় ঝড় হয়েছিল। তালপাতার ছাউনির মন্দির ছিল।ঝড়ে প্রতিমা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়,সেজন্য নাকি দেবীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় (Khepima Puja)।

মায়ের বেদির পিছনে রয়েছে মন্দিরের দেওয়ালে ছিদ্র রয়েছে।সেই ছিদ্র দিয়ে দড়ি ঢুকিয়ে গাছের সঙ্গে প্রতিমার কাঠামো বেঁধে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে দেবদারু গাছেই দেবীকে বেঁধে রাখা হয়। রায় পরিবারের দুর্গাপুজোর বিসর্জনও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকে শুরু হওয়া এই পুজো শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন রীতিতে। বিসর্জনের সময় এখানে টর্চলাইট, হ্যাঁচাক কিংবা বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার হয় না। আজও শুধুমাত্র পাটকাঠির মশালের আলোয় হয় বিসর্জন। আশেপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান। অনেকের বিশ্বাস, বিসর্জনের সময় মাকে কাঁধে নিলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিসর্জনের পর প্রতিমার কাঠামো আর বাড়ি ফেরে না (Khepima Puja)।

যদিও গ্রামে বহু পুকুর রয়েছে, তবুও কয়েক কিলোমিটার দূরের নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।পুকুরের জল দিয়েই আজও রান্না হয় মায়ের ভোগ। এভাবেই যুগের পর যুগ নানা নিয়ম, রীতি, অলৌকিক কাহিনি এবং ভক্তির আবেশে পালিত হয়ে আসছে ঘোড়ানাশ গ্রামের রায় পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো, যাকে স্থানীয় মানুষ স্নেহভরে ডাকেন খেপিমাকে। পুজোর চার দিন পাড়ার সব মানুষ অংশ নেয়। সমাজের সব অংশের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে উত্সবকে ছন্দে মাতোয়ারা করে তোলে (Khepima Puja)।

Related Articles