“কী উদ্ধত রে বাবা! ওঁর জন্য দলটা শেষ হল!”, মাঝরাতে ফোন আসতেই অভিষেকের মামলা ছাড়লেন কল্যাণ!
মাঝরাত সাড়ে ১২টায় এমন কী ঘটল? ৪৫ বছরের ওকালতি সম্মানে ধাক্কা লাগায় ‘বিদ্রোহী’ কল্যাণ
Truth of Bengal: ছাব্বিশের রাজনৈতিক মহাবর্তে এবার সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনি লড়াইয়ের আঙিনাতেও তীব্র ফাটল! সই জাল-কাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ালেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। শুধু কল্যাণ নিজেই নন, তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুরো জুনিয়র টিম এই হাই-প্রোফাইল মামলা থেকে একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক তার আগেই পেশাগত ও রাজনৈতিক আত্মসম্মানে আঘাত লাগার অভিযোগ তুলে মামলাটি ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন কল্যাণ। বর্তমানে এই মামলায় অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।
“কী উদ্ধত রে বাবা!”, বিস্ফোরক শ্রীরামপুরের সাংসদ
মামলা ছাড়ার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি অভিষেকের মামলা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! গতকাল বুধবার আমি নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে ওর মামলার কথা উল্লেখ করলাম। মমতাদির (Mamata Banerjee) বাড়িতে সিআইডি (CID) যাওয়ার গুরুতর বিষয়টিকেও বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে তুলে ধরলাম। কোনও কারণে বুধবার কোর্ট মামলাটি শোনেনি। আমরা তখন বিচারপতিকে জরুরি ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার শোনার অনুরোধ করি।”

তার পরেই আসল বোম ফাটিয়ে কল্যাণ বলেন, “বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে হঠাৎ জানানো হয় যে, এই মামলায় নাকি জুনিয়রদেরও জুনিয়র অয়ন প্রধান সওয়াল করবে! আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এর (অভিষেক) সঙ্গে আমি আর কোনও মতেই থাকব না। এই পেশায় আমি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আছি। এই ধরণের অপেশাদার ও উদ্ধত মনোভাব আমি কোনও দিন মেনে নেব না।”
“ওঁর জন্য দলটা শেষ হয়েছে”, মমতার দরবারে নালিশ কল্যাণের
আইনি সংঘাতকে সরাসরি দলের শীর্ষ স্তরের কোন্দলে টেনে নিয়ে গিয়েছেন কল্যাণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজিরভাবে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, “ওঁর (অভিষেক) এই অহংকার আর উদ্ধত স্বভাবের জন্যই আজ দলটা পুরো শেষ হয়ে গিয়েছে। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও ওর দেমাক কমেনি।”

এখানেই থামেননি কল্যাণ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চরম বার্তা দিয়ে বিদ্রোহী সাংসদ বলেন, “আমি এবার সরাসরি মমতাদিকে বলব, হয় আপনি অভিষেককে রাখুন আর আমাদের দল থেকে ছেড়ে দিন, নয়তো আমাদের সম্মান দিয়ে রাখুন আর অভিষেককে দল থেকে সরান।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকের পর এবার কল্যাণের এই প্রকাশ্য জেহাদ প্রমাণ করছে যে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন এখন ক্ষোভের লাভা হয়ে ফুটছে।






