রাজ্যের খবর

ইতিহাসের সাক্ষী আজ পরিত্যক্ত! গৌরহাটির ‘থানা দে গেরোটি’ হারাচ্ছে ঐতিহ্য

A witness to history is abandoned today! Gourhati's 'Thana de Geroti' is losing its heritage

Truth Of Bengal: রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলির গৌরহাটির জিটি রোডের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ধ্বংসপ্রায় ভবন—‘থানা দে গেরোটি’। বাইরে থেকে দেখলে বোঝা মুশকিল, এটি কোনোদিন একটি চালু পুলিশ থানা ছিল। অথচ ইতিহাস বলছে, ভারতের স্বাধীনতার বহু বছর পর পর্যন্তও চালু ছিল এই ফরাসি পুলিশ স্টেশন। ১৯৫০ সালে ফরাসিরা চন্দননগর ছাড়ার পর পরই বন্ধ হয়ে যায় এই থানা।

ভবনটির গায়ে এখনও স্পষ্ট লেখা থানা দে গেরোটি। ‘গেরোটি’ উচ্চারণটি এসেছে ফরাসিদের উচ্চারণভঙ্গি থেকে, যারা ‘গৌরহাটি’কে এভাবেই বলত। একসময় এই থানা ছিল চন্দননগরের পাঁচটি ফরাসি থানার একটি।

আজ সেই গৌরব হারিয়ে ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে নীরবে, প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায়। ছাদে আগাছা, দেয়ালে ফাটল, ভেতরে ঢোকার উপায় নেই। অথচ এই ইট-কাঠের গায়ে লেগে আছে এক উপনিবেশিক অধ্যায়ের নিঃশব্দ চিহ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা বলছেন, শহরের পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম স্তম্ভ হতে পারত এই ধরণের ফরাসি স্থাপত্য।

চন্দননগরের অন্য একটি ফরাসি থানা—গোন্দলপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি—আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও সেটি আধুনিকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, তবে তার বাইরের দেয়ালে এখনও ঝুলছে পুরনো ফরাসি ফলক। এই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে স্থানীয়রা মনে করছেন, গৌরহাটির ‘থানা দে গেরোটি’-কেও হেরিটেজ ঘোষণার মাধ্যমে নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব।

ইতিহাস শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটা ছড়িয়ে আছে আমাদের আশেপাশের পুরনো ইট, কাঠ আর ধুলোয় ঢাকা দেওয়ালগুলোর ভাঁজে। এখন শুধু প্রয়োজন একটুখানি সদিচ্ছা ও সংরক্ষণের উদ্যোগ। তাহলেই হয়তো আবার জেগে উঠবে ‘থানা দে গেরোটি’, শুধু ইতিহাস নয়—পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবেও।

Related Articles