কলকাতা

‘সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছেন!’ ইডির বার্তার পরেই মমতাকে তোপ দিলীপের

ইডি তাদের বিবৃতিতে মমতাকে এই মামলায় অভিযুক্ত করেনি বা ওই অর্থকে অপরাধলব্ধ বলে চিহ্নিত করেনি

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের তদন্তে এবার উঠে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। তবে ইডি তাদের বিবৃতিতে মমতাকে এই মামলায় অভিযুক্ত করেনি বা ওই অর্থকে অপরাধলব্ধ বলে চিহ্নিত করেনি। ইন্দ্রনীল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ওই টাকা ‘রয়্যালটি’ বাবদ দেওয়া হয়েছিল। ইডির এই দাবি সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “উনি নিজে সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছেন। এসব আর চলবে না।”

গত কয়েকদিন ধরেই দুর্গাপুজোর পাস সংক্রান্ত মামলায় ইডির নজরে রয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বাড়ি ও ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশির পর তাঁকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ইডির দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘massArt’-এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোর টিকিট বিক্রি করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ইডির আরও দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। পাশাপাশি পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ওই সংস্থাগুলি থেকে পরে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ গিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই আবহেই মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, “উনি নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি রেখে বাকি সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নেতা-মন্ত্রীরা জেলে যাচ্ছেন, ওঁর গায়ে কোনও কালি লাগেনি। কিন্তু এই চালাকিটা আর বেশিদিন চলবে না।” আরও কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওঁর চিরদিনের। ওঁর জন্যই পুরো পার্টি আজ ডুবে গিয়েছে। এবার আসল ঘটনা বের হচ্ছে।” তবে ইডির দাবির পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে মমতা শিবির। বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বই লেখেন, গান লেখেন এবং সুর করেন। ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর সঙ্গে তাঁর সেই সৃষ্টিকর্মের বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল এবং সেই সূত্রেই রয়্যালটি পেয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, ওই অর্থ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে, টিডিএস কেটে দেওয়া হয়েছিল এবং আয়কর রিটার্নেও তা দেখানো হয়েছে। ফলে ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন নিয়ে আপাতত দু’টি ভিন্ন অবস্থান সামনে। একদিকে ইডি অর্থের উৎস ও গতিপথ খতিয়ে দেখছে, অন্যদিকে মমতা শিবিরের দাবি, সেটি ছিল বৈধ রয়্যালটি। তদন্তে এই লেনদেন সম্পর্কে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর।

Related Articles