ইন্দ্রনীলের লাখ লাখ টাকা গিয়েছে মমতার অ্যাকাউন্টেও! ইডির তদন্তে চাঞ্চল্যকর পর্দাফাঁস
পুজো পাস বিক্রির টাকায় মহাদুর্নীতি? প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ইডির বিস্ফোরক দাবি
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-র টিকিট ও পাস বিক্রির টাকা নিয়ে বড়সড় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আতশকাঁচের নিচে এলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ইডি দাবি করেছে, এই দুর্নীতির লভ্যাংশের আর্থিক লেনদেনের সংযোগ মিলছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।
ঘটনার সূত্রপাত জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের তির শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর দিকেই নয়, বরং তাঁর স্ত্রী তথা ‘ম্যাসআর্ট’-এর সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের দিকেও। অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে বিগত তিন বছর ধরে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-র পাসের নামে অগণিত টাকা তোলা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি নিয়ম শিথিল করে এবং কোনও বৈধ প্রক্রিয়া না মেনে দুর্নীতির এই বিপুল অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, নিয়মকানুন শিকেয় তুলে প্রায় ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়ে বলে ইডির সূত্রে প্রকাশ। সেখান থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে ইডি দাবি করেছে। যদিও ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিছকই সংগীতাংশের প্রাপ্য ‘রয়্যালটি’ হিসেবেই দেওয়া হয়েছিল। তবে পাস বিক্রির বেআইনি টাকা ঠিক কোন কোন পথে কার কার হাতে পৌঁছেছে, তার গভীর মূল পর্যন্ত পৌঁছাতে তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ইডির একাধিক টিম একযোগে শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি চালায়। কসবা এলাকায় ইন্দ্রনীল সেনের বাসভবন থেকে শুরু করে পঞ্চসায়রে ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তের বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্ক ও হাইল্যান্ড পার্কের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। এমনকী হুগলির সিঙ্গুরে অবস্থিত প্রাক্তন মন্ত্রীর একটি বাগানবাড়িতেও হানা দেন আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু নথিপত্র।
তল্লাশি অভিযানের পরই ইন্দ্রনীল সেনকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। টানা ৯ ঘণ্টার জেরায় আধিকারিকরা তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করেন। পুজোকে ঘিরে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক কারচুপির জাল কতদূর বিস্তৃত, এখন সেটাই দেখার।






