ময়নাতদন্তের ভয়ে হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিয়ে চম্পট! শ্মশান থেকে দেহ ফেরাল পুলিশ
পুলিশি তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত শ্মশান থেকে দেহটি উদ্ধার করে পুনরায় হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।
পার্থ দাস, বীরভূম: হাসপাতাল থেকে কোনও প্রকার ছাড়পত্র বা আইনি নথিপত্র ছাড়াই এক ব্যক্তির মৃতদেহ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল সিউড়ি জেলা হাসপাতালে। শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ ঘটা এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশি তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত শ্মশান থেকে দেহটি উদ্ধার করে পুনরায় হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম রাজেশ সিং। আদতে রাজস্থানের কোটা জেলার বাসিন্দা হলেও, বীরভূমের পাণ্ডবেশ্বরে বিয়ে করার সুবাদে তিনি সেখানেই থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় শনিবার সকালে তাকে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) ভয়ে হাসপাতালের নিয়ম না মেনেই দেহটি নিয়ে সটান চম্পট দেন তার আত্মীয়রা।
হাসপাতাল থেকে দেহ নিখোঁজের খবর পাওয়ামাত্রই সিউড়ি থানার পুলিশ তদন্তে নামে। ভর্তির সময় দেওয়া ঠিকানার সূত্র ধরে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানা যায়, দেহটি সৎকার করার জন্য পাণ্ডবেশ্বরের একটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত সেখানে পৌঁছে শেষকৃত্যের আগেই শ্মশান থেকে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত দেহটি পুনরায় সিউড়ি হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আত্মীয়রা জানান, মূলত ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত ভয় থেকেই তারা নিয়ম না মেনে দেহ নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সিউড়ি থানার পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত মানবিকতার সাথে বিবেচনা করে। প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি নথিপত্র ও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয় পুলিশ। প্রশাসনিক কাজ শেষ হওয়ার পর যথাযথ সম্মানের সাথে দেহটি পুনরায় পাণ্ডবেশ্বরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।






