আন্তর্জাতিক

সুর নরম নয়! খামেনেইয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও পরমাণু ইস্যুতে অনড় ট্রাম্প প্রশাসন

একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হলেও, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক তৎপরতা জারি রেখেছে আমেরিকা।

Truth Of Bengal: ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন কাটাতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক। রুবিয়োর মতে, ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি বিশ্বাস করেন যে কোনও বড় সমস্যার সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। তবে এই আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি রুবিয়ো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দেবে না ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—ইরানের হাতে পরমাণু বোমা আসা মানেই বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হওয়া, যা রুখতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর।

একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হলেও, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক তৎপরতা জারি রেখেছে আমেরিকা। পারস্য উপসাগরে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’, এবং ট্রাম্পের নির্দেশে ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ রণতরীটিও সেই পথে এগোচ্ছে। সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রণতরী মোতায়েন প্রসঙ্গে রুবিয়ো ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি কোনো আগ্রাসনের প্রস্তুতি নয়, বরং আমেরিকার স্বার্থ ও পরিকাঠামোর ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ মাত্র। রুবিয়ো স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিকবার মার্কিন স্বার্থে আঘাত করা হয়েছে, তাই নিরাপত্তার খাতিরেই এই সামরিক সতর্ক অবস্থান।

বর্তমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও পর্দার আড়ালে কূটনীতির চাকা ঘুরছে। ওমানে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই এক দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় ওমানে ফের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ভবিষ্যতে খামেনেইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেনও, তবুও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরবে না। রুবিয়োর কথায়, এই ধরনের বৈঠক হবে সংঘাত থামানোর স্বার্থে, কোনোভাবেই ইরানের ওপর থেকে এখনই সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে না। সামগ্রিকভাবে, আলোচনার টেবিলে বসার সদিচ্ছা দেখালেও সামরিক ও কৌশলগত চাপে ইরানকে কোণঠাসা রাখার নীতিতেই অনড় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Related Articles