রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সন্দেশখালিতে অ্যাকশন: এবার গ্রেফতার শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা
গভীর রাতে সন্দেশখালি থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ সন্দেশখালি ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি শ্রীদাম হাওলি
Truth of Bengal: এ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হতেই ফের খবরের শিরোনামে সন্দেশখালি। ২০২৪ সালে রেশন দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে সন্দেশখালির তৎকালীন বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহানের নাম সামনে আসার পর থেকেই কার্যত কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছিল। রেশন দুর্নীতি, বিঘার পর বিঘা জমি দখল থেকে শুরু করে মহিলাদের উপর নির্যাতনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে শাহজাহান সিবিআই-এর স্ক্যানারে এলেও, গত কয়েক বছর ধরে পুলিশের নাগালের বাইরেই ছিলেন তাঁর একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অবশেষে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই সোমবার গভীর রাতে সন্দেশখালি থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ সন্দেশখালি ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি শ্রীদাম হাওলি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে বেআইনিভাবে জমি দখল এবং সেই সংক্রান্ত মারামারির ঘটনায় এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় এবং ‘প্রভাবশালী’ শেখ শাহজাহানের দাপটকে কাজে লাগিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন শ্রীদাম, যার ফলে পুলিশ তাঁকে ছুঁতেও সাহস পায়নি।
শুধু সন্দেশখালিই নয়, পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান চলেছে স্বরূপনগরেও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় নাম জড়ানো স্বরূপনগরের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নারায়ণ করকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিগত পাঁচ বছর ধরে পলাতক থাকা এই নেতাকেও এর আগে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার পুলিশ প্রশাসনকে ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ বা পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়াল জেরেই এই তৎপরতা। আর সেই নির্দেশ মেনেই জেলায় জেলায় জোরদার পুলিশি অভিযান চালিয়ে প্রতিদিনই জালে তোলা হচ্ছে একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত ও আইনভঙ্গকারীদের।






