একুশের ভোটে দেওয়া কথা রাখলেন ছাব্বিশে! মুখ্যমন্ত্রী হয়ে চা খেলেন নন্দীগ্রামের সেই দোকানে
লালকৃষ্ণ আডবানি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সবাই যাঁর দোকানের ভক্ত! মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই খড়াদার কাছেই ফিরে এলেন শুভেন্দু
Truth of Bengal: রাজনীতিতে কথার খেলা অনেক হলেও, পরম মমতায় দেওয়া কথা রেখে ফেরা নেতার সংখ্যা বিরল। ঠিক পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রাম থানা মোড়ের বিখ্যাত চা বিক্রেতা সুজল মাইতি ওরফে ‘খড়াদা’র দোকানে চা খেতে গিয়ে কথা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, “আমি এরপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তোমার দোকানে এসে আবার চা খাব।” সময় গড়িয়েছে, ঘটেছে বঙ্গ রাজনীতির মেগা পরিবর্তন। অবশেষে রবিবার নন্দীগ্রামে গিয়ে সেই পাঁচ বছর আগের কথা রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার নন্দীগ্রাম থানা মোড়ে খড়াদার সেই পরিচিত চায়ের দোকানে আচমকাই হাজির হন শুভেন্দু। অত্যন্ত সাধারণ ভঙ্গিতে দোকানে বসে সুজলের হাতের স্পেশাল দুধ চা খেয়ে হাসিমুখে বলেন, “কথা রাখলাম ভাই।” মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই তিনটি শব্দ শুনতেই এক মুহূর্তে যেন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন খড়াদা।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৩ বছর ধরে নন্দীগ্রাম থানা মোড়ে ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকান চালাচ্ছেন সুজল মাইতি। তাঁর দোকানের লিকার চা এবং দুধ চায়ের দারুণ সুখ্যাতি রয়েছে সমগ্র জেলাজুড়ে। ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলিতে এই ছোট্ট দোকানেই চা খেয়েছেন লালকৃষ্ণ আডবানি সুষমা স্বরাজ, তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তবে সমস্ত স্মৃতির মধ্যে সুজলের কাছে সবচেয়ে স্পেশাল ছিল ২০২১ সালের সেই অমলিন মুহূর্তটি। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পরেও যে এক সাধারণ চা বিক্রেতার কথা ভুল যাননি, তাতেই আনন্দে আত্মহারা খড়াদা। আবেগাপ্লুত গলায় সুজল বলেন, “উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েও আমার মতো সাধারণ মানুষের কথা মনে রেখেছেন, এটা আমার কাছে পরম সৌভাগ্য এবং আজীবনের গর্বের বিষয়।”
এই অপরিসীম আনন্দের দিনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি খড়াদা। শুভেন্দু অধিকারী দোকান থেকে যাওয়ার পরই সেই খুশিতে সারাদিন দোকানে আসা সমস্ত ক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে একদম নিখরচায় ও বিনামূল্যে চা খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে এক নেতার দেওয়া কথা রাখা এবং এক সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার এই ছবি এখন নন্দীগ্রামের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।






