CJP সমর্থকের বাবাকে পিটিয়ে খুন! তোলপাড় বাঁকুড়ায়, পুলিশের জালে বিজেপি বুথ সভাপতি-সহ ৮
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই!
কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামে রাজনৈতিক হানাহানির জেরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। ককরোচ জনতা পার্টির এক কর্মীর বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত শেখ মহম্মদ মাফিকের স্ত্রী হাসিনা বেগম আজ দুপুরে ইন্দাস থানায় উপস্থিত হয়ে ৫ জনের নাম-সহ মোট ১০-১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ মেলার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা তথা বুথ সভাপতি অষ্টম মাঝি-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ আগস্ট। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন করিশুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ। দিল্লি থেকে ফেরার পর সংগঠনের নির্দেশে গত ১৩ আগস্ট তিনি এলাকার করিশুণ্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাশীনাথ দে তাঁকে একদিন পর আসতে বলে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের উসকে দেন।
পরিবারের দাবি, ওই দিন রাতেই একদল দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও শাবল নিয়ে শেখ আব্দুল হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে হাফিজ ঘরের ভেতরে ঢুকে গেলেও আক্রমণের মুখে পড়েন তাঁর বৃদ্ধ বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। দুষ্কৃতীরা তাঁকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ইন্দাস থানার পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে।
শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গত ১৫ আগস্ট তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে নেমে ৮ জনকে আটক করেছিল। মৃতের স্ত্রী হাসিনা বেগম লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর সেই ৮ জনকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের স্পষ্ট দাবি, হামলাকারীরা সকলেই এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী এবং তাঁদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসি দিতে হবে। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে আর কেউ ইন্ধন জুগিয়েছিল কি না, তা জানতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।






