‘বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না, কিছু একটা করুন!’, ইন্ডি জোটের বৈঠকে কান্নাকাটি মমতার
‘ভ্যানিশ’ থেকে এবার ‘বিনাশ’! নির্বাচন কমিশনারের ওপর বিষোদগার করেও করুণ দশা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
Truth of Bengal: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের পর সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে আয়োজিত বিরোধী ইন্ডি (INDI) জোটের ২১টি দলের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিয়ে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির কাছে তিনি যেভাবে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে তিনবারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে করুণ ও কাতর স্বরে শরিক দলগুলির কাছে করুণা ভিক্ষা করেছেন, তাতে বিরোধী শিবিরের ভেতরের রাজনৈতিক অসঙ্গতি ও দুর্বলতাই প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এদিন জোটের বৈঠকের সূচনার প্রথমেই অত্যন্ত ভেঙে পড়ে কাতর স্বরে বক্তব্য পেশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক কক্ষে হাজির থাকা ২১টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সামনে তিনি স্বীকার করে নেন, “বাংলায় বিজেপির কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর আমার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পরাজয়ের ধাক্কায় আমি বাড়ি থেকে বেরোতেই পারছি না! আপনারা দয়া করে হাত বাড়িয়ে দিন, আমাদের বাঁচাতে কিছু একটা করুন।” নির্বাচনে হেরে গৃহবন্দি হয়ে পড়ার এই করুণ আর্তি শুনে বৈঠক কক্ষে উপস্থিত অনেক শরিক নেতাই হতবাক হয়ে যান।
নিজের দলের চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঢাকতে যথারীতি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার পুরনো চেষ্টা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে ঠেকাতে জাতীয় স্তরে শরিকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আক্রমণের নিশানায় ছিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিছুদিন আগেও নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে যাকে তিনি ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে ডাকতেন, এদিন হতাশার চরম সীমায় পৌঁছে ইন্ডি জোটের মঞ্চে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিনাশ কুমার’ বলে আক্রমণ করেন।






