আশিসের মৃত্যুর পরেই রাজনীতিতে পা রাখবেন একমাত্র ছেলে! জল্পনা উসকে কী জবাব শতদলের?
ভবিষ্যতে দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিষণ্ণ কণ্ঠে জবাব দেন
Truth of Bengal: ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো, রাজনীতির আঙিনায় সুদীর্ঘ পথ হেঁটেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষকতাকে পেশা এবং জনসেবাকে ব্রত করে রাজনীতিকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে। কিন্তু জীবনের ৭৫তম বসন্তে এসে এক গভীর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন এই প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুইসাইড নোটে তিনি স্পষ্টভাবে লিখে যান, ‘রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল।’ রবিবার সকালে তাঁর এই আকস্মিক ও রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা কেবল তাঁর পরিবারকেই নয়, সমগ্র রাজ্য রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
বাবা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই কলকাতা থেকে দ্রুত রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন তাঁর একমাত্র সন্তান শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শতদলবাবু কলকাতায় একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। শনিবার রাতেও পরিবারের সকলের সঙ্গে শেষবার ভিডিও কলে দীর্ঘ কথা হয়েছিল দাদুর। পরদিন সকালেই আসে এই চরম দুঃসংবাদ। রামপুরহাটে পৌঁছানোর পর এক শোকাকুল পরিবেশে মধ্যাহ্নে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীদের মতো দলীয় নেতৃত্ব। তার পূর্বেই ফোন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পিতৃহারা শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীরা যখন সমবেত হয়েছিলেন, তখনই তাঁর কাছে উঠে আসে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনীতির প্রসঙ্গ। কারণ, আশিসবাবু তাঁর সুইসাইড নোটে শেষ ইচ্ছা হিসেবে উল্লেখ করে গিয়েছিলেন যে, তাঁর ছেলে যেন কখনও রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় পা না বাড়ান। এনিয়ে শতদলবাবু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, “বাবা কোনওদিনই চাননি আমি এই পেশায় আসি। তিনি আমাকে বারবার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতেন এবং আমিও সর্বদা রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরেই অবস্থান করতাম।”
তবে বাবার এই আকস্মিক প্রয়াণ কি তাঁকে রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে টেনে আনবে? নতুন করে কি তিনি জনসেবার পতাকাতলে যোগ দেবেন? ভবিষ্যতে দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিষণ্ণ কণ্ঠে জানান, “এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য করার মতো মানসিক অবস্থায় আমি নেই। বাবা তো কখনওই চাননি। তবে ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, তা এখন থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।” যে রাজনৈতিক জটিলতার জেরে একজন সজ্জন ব্যক্তিত্বকে শেষ পর্যন্ত প্রাণ বিসর্জন দিতে হল, সেই রাজনীতির পথেই ছেলে হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।






