নীল-সাদা রঙে তুমুল আপত্তি! গণেশ মণ্ডপের কাপড় খোলালেন বিজেপি নেতা, জোর বিতর্ক!
মণ্ডপের কাপড়ের রঙে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত? স্থানীয় বিজেপি নেতার হুমকিতে বদলে গেল মণ্ডপ!
Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের পর সরকারি কর্মসূচি ও পরিকাঠামোয় পুরনো ‘নীল-সাদা’ রঙের প্রভাব এখন অনেকটাই অতীত। কিন্তু সেই রঙের বিতর্ক এবার আছড়ে পড়ল এক গণেশ পুজোর মণ্ডপে! পুজোর প্যান্ডেলের বাইরের কাপড়ের রং নীল-সাদা হওয়াকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হলো মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার আপত্তির মুখে শেষপর্যন্ত মণ্ডপের সেই নীল-সাদা কাপড় খুলে ফেলে বদলে দিতে বাধ্য হন উদ্যোক্তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক শোরগোল ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’-এর গণেশ পুজোয়। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই পুজোয় চলতি বছরেও বেশ ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়েছিল। নিয়ম মেনে এবার মণ্ডপের ভেতরে হলুদ-সাদা এবং বাইরের দিকে নীল-সাদা রঙের কাপড় দিয়ে সাজানো হয়। বিতর্কের সূত্রপাত পুজোর দিন, যখন মণ্ডপে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান এবং জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান।
এর পরেই মাঠে নামেন স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরী। সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে ও হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করতেই মণ্ডপে নীল-সাদা রং ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু নেটমাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি, তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপে ক্লাব কর্তৃপক্ষ মণ্ডপের বাইরের নীল-সাদা কাপড় পুরোপুরি সরিয়ে সেখানে হলুদ-সাদা রঙের কাপড় লাগাতে বাধ্য হয়।
অতীতে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় সরকারি ভবন থেকে শুরু করে রাস্তার রেলিং, সর্বত্র নীল-সাদা রঙের ব্যবহার দেখা যেত। তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই রঙের প্রথা বদলে গেলেও একটি পুজোর প্যান্ডেলের কাপড়ের রং নিয়ে এমন কড়াকড়ি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, নিজের দলের নেতার এই চরম অবস্থানের পাশে দাঁড়ায়নি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
বিতর্ক প্রসঙ্গে মালদহ জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “পুজোর মণ্ডপের কাপড়ের রং যেকোনোটাই হতে পারে। যে দলের বা যে ক্লাবের যা ইচ্ছা, তাঁরা সেই অনুযায়ী ডেকোরেশন করবেন। এতে দলীয় কোনো হস্তক্ষেপের বিষয় নেই।” জেলা নেতৃত্বের এমন বিপরীতমুখী জবাবে স্থানীয় ওই বিজেপি নেতা বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






