“থানা থেকে বের করে নিয়ে পিটাব!”, বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের বিস্ফোরক অডিও ভাইরাল
নগরউখড়ায় অটো-টোটো বিবাদে বিজেপি মণ্ডল সভাপতি গ্রেফতার! ওসিকে বদলির হুঁশিয়ারি বিধায়কের!
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: দলীয় মণ্ডল সভাপতিকে গ্রেফতার ও পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হয়ে নদীয়ার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক কবিয়াল অসীম সরকারের এক বিস্ফোরক হুমকির ভিডিও ও অডিও বার্তা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপে বিধায়ক অসীম সরকারকে সরাসরি স্থানীয় থানার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে কড়া সুরে বলতে শোনা গিয়েছে, “থানা থেকে বের করে নিয়ে এসে পিটাব!” ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত নদিয়ার নগরউখড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে অটো ও টোটো চালকদের মধ্যে রুট ও যাত্রী তোলা নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেই ঝামেলা সামাল দিতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। এই বিবাদের জেরে স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তুষার কান্তি গাইনকে পুলিশ আটক ও হেনস্থা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিধায়ক অসীম সরকারের কানে পৌঁছাতেই তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরাসরি পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই বিধায়কের সঙ্গে এক পুলিশ কর্তার তীব্র বাকবিতণ্ডার অডিও টেপ ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার বলেন, “পুলিশ যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অহেতুক আমাদের দলীয় কার্যকর্তা ও মণ্ডল সভাপতিকে গ্রেফতার করেছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আমরা নীতিগতভাবে ‘গরমে গরম, নরমে নরম’ নীতিতেই চলব।” শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC)-র পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বিধায়ক হুঁশিয়ারি দেন যে, অবিলম্বে ওই অযোগ্য পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত নালিশ জানানো হবে।
উল্লেখ্য, অসীম সরকার কেবল হরিণঘাটার নির্বাচিত বিধায়কই নন, তিনি বঙ্গের একজন জনপ্রিয় লোকশিল্পীও বটে। তাঁর মুখ থেকে পুলিশের প্রতি এহেন ‘থানা থেকে বের করে পেটানো’র চরম হুঁশিয়ারি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই ভাইরাল অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও উপনির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির এই মুখোমুখি সংঘাতে নদীয়ার রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।






