Ancient Rath Yatra Bengal: লক্ষ্মীর সঙ্গে মন কষাকষিতে বাংলার এই তীর্থভূমে পালিয়ে এসেছিলেন জগন্নাথ, জানেন সেই ইতিহাস?
যারা বেশি পরিমাণে ভান্ডার লুট করতে পারতেন, তাদের বৃন্দাবন চন্দ্র তার মন্দিরের পাহারার দায়িত্ব দিতেন
Truth of Bengal: বাংলার প্রাচীন রথযাত্রা গুলির মধ্যে অন্যতম হুগলির গুপ্তিপাড়ার রথ। প্রাচীনত্ত্বের দিক দিয়ে মাহেশের পরেই গুপ্তিপাড়ার রথকে ধরা হয়। প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এই রথযাত্রা। গুপ্তিপাড়ার রথের সঙ্গে মিশে আছে অনেক অজানা ইতিহাস। জানা যায়, ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব প্রথম শুরু হয়। মধুসুদানন্দ মতান্তরে পিতাম্বরানন্দ গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। এই রথ বৃন্দাবন জিউ রথ হিসেবে পরিচিত। দক্ষিন-টানের এই রথ যাত্রা পুরীর রথ যাত্রার মতন পূণ্য-বান বলে মনে করেন ভক্তরা। প্রাচীন এই রথ যাত্রাকে ঘিরে হুগলি ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। রথ যাত্রার দিনে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম ঘটে। সাত দিন ধরে চলে মেলা। এখানকার রথের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভান্ডার লুট। বহু বছর ধরে প্রাচীন প্রথা মেনে এই ভান্ডার লুট চলছে। রথের দিন এখানে ভান্ডার লুট করা হয়। কথিত আছে, লক্ষ্মীর সঙ্গে মন কষাকষি হওয়ায় জগন্নাথ এখানে লুকিয়ে এসেছিলেন এবং সেই কারণে এই প্রথা চলে আসছে। যারা বেশি পরিমাণে ভান্ডার লুট করতে পারতেন, তাদের বৃন্দাবন চন্দ্র তার মন্দিরের পাহারার দায়িত্ব দিতেন (Ancient Rath Yatra Bengal)।
গুপ্তিপাড়ায় সারা বছর জগন্নাথ দেব বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে থাকেন। আর এই রথযাত্রার দিনে মাসির বাড়ি যান সুসজ্জিত রথে চড়ে। বৃন্দাবন মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রা রথে চড়ে পাড়ি দেন এক কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ি গোসাঁইগঞ্জ-বড়বাজার এলাকায়। বছরের অন্যসময়ে ঐতিহ্যপূর্ণ রথটি বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের পাশে টিনের খাঁচায় ভরা থাকে। এই রথ চার তলা, উচ্চতা প্রায় ৩৬ ফুট, দৈর্ঘ্য ও প্রস্ত ৩৪ ফুট করে। আগে বারোটা চূড়া ছিল বর্তমানে নয়টি চূড়া। এক সময় পুরীর মতোই কাঠের রথের প্রচলন ছিল সর্বত্র। কালের নিয়মে কাঠের রথের বদলে অনেক জায়গাতেই লোহার রথে যাত্রা করেন দেব-দেবীরা। তবে কাঠের রথের ঐতিহ্য এখনও বয়ে চলেছে গুপ্তিপাড়া (Ancient Rath Yatra Bengal)।
চন্দননগরের রথযাত্রা:
মাহেশ, গুপ্তিপাড়া ছাড়াও বাংলায় আরও বেশ কয়েক জায়গায় বহু প্রাচীন রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে যে নামগুলি প্রথমেই আসে তা হল হুগলির চন্দননগরের রথযাত্রা। পুরোনো ফরাসি শহরের লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে এই প্রাচীন রথযাত্রা ঐতিহ্যে মোড়া। জানাযায়, চন্দননগর লক্ষীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী যদুবেন্দ্র ঘোষ ১৭৭৬ সালে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। আড়াইশো বছর ধরে চন্দননগরে এই রথযাত্রা হয়ে আসছে। অতীতে নিম কাঠের রথ থাকলেও এখন চন্দননগরের ব্রেথওয়েট কোম্পানির তৈরি রথ টানা হয় (Ancient Rath Yatra Bengal)।
বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের রথযাত্রা:
রাজ্যের আরেকটি প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ রথ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। বাঁকুড়ায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন মল্লরাজের রথযাত্রার সঙ্গে মিশে রয়েছে অনেক গল্পগাঁথা। কথিত আছে ১৬৬৫ সালে তৎকালীন মল্লরাজা বীরমল্ল রানি শিরোমণির ইচ্ছাপূরণে বিষ্ণুপুর শহরের মাধবগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন মন্দির। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার অল্প দিনের মধ্যেই মন্দিরের আদলে পিতলের রথ নির্মাণ করা হয় (Ancient Rath Yatra Bengal)।
মহিষাদল জমিদার বাড়ির রথ:
মাহেশ, গুপ্তিপাড়া, বিষ্ণুপুরের মতোই পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রথযাত্রাও বাংলার মধ্যে বিখ্যাত। মহিষাদলের রথের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন। ১৭৭৬ সালে মহিষাদলের জমিদার আনন্দলালের স্ত্রী জানকী দেবী এখানে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। ২৫০ বছর ধরে রথ উৎসব পালন করে চলেছে মহিষাদল। এই রথযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হলো রাজবাড়ির কুলদেবতা গোপালজিউ। ১৭৭৪ সালে রথ শুরুর আগেই গোপালজিউ-এর মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আর তার পরে ১৭৭৬ সালে মদনগোপাল মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন জানকী দেবী। প্রথমে রথ তৈরি হয় ১৭টি চূড়ার। পরে তা কমিয়ে ১৩ চূড়ার করা হয়। সর্বশেষ রথটি প্রস্তুত করেন জমিদার পরিবারের লছমনপ্রসাদ গর্গ। শোনা যায়, প্রথমে রথের আগে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত হাতি। হাতির পিঠে লাল নিশান নিয়ে মাহুত পথ দেখাত। রথের সমারোহ এত বিরাট ছিল যা পুরীর রথযাত্রার উত্তরসূরি রূপে মহিষাদলের রথযাত্রাকে গণ্য করা হতো। মহিষাদলের রথের অন্যতম আকর্ষণ কাঁঠাল। রথের প্রায় এক মাস আগে থেকে নদিয়া,মুর্শিদাবাদ, হুগলি, দক্ষিন ২৪ পরগনা থেকে চাষিরা তাদের বাগানের কাঁঠাল নিয়ে মহিষাদলে হাজির হন। মহিষাদল রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জে এবং পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের নিকট বসে কাঁঠালের মেলা (Ancient Rath Yatra Bengal)।






