দীর্ঘদিন উন্নয়ন হয়নি কাঁথি শহরের, পুরসভায় পা রেখেই বিস্ফোরক সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী
দীর্ঘ ৪ বছর পর দাপটের সঙ্গে পুরসভায় ফিরলেন শুভেন্দুর ভাই
রঞ্জন মাইতি, কাঁথি: রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন কাঁথির ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কাঁথি পুরসভায় দেখা গেলো এক অন্য ছবি। কাঁথি পুরসভায় সোমবার দুপুরে বিজেপির পক্ষ থেকে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, পুরবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। “ছাপ্পা মেরে জেতা কাউন্সিলররা লুটের রাজ চালাচ্ছেন”, এই অভিযোগ তুলে পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
এদিন বিজেপি কাউন্সিলর নেতৃত্বদের সঙ্গে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, কাউন্সিলর তাপস দোলাই ও সুশীল দাসের নেতৃত্বে পুর আধিকারিকদের নিয়ে একটি উন্নয়নমূলক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে পুর এলাকার নাগরিকদের কীভাবে উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই পুর এলাকার উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু পরিষেবা পান।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিজেপি কাউন্সিলর ও কর্মীরা স্লোগান তোলেন, “পুরসভা চালাতে না পারলে গদি ছাড়ুন।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘর তথা কাঁথি পুরসভা চত্বরে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। বিজেপির দাবি, ২০২০ সালে নানা অপমান ও রাজনৈতিক চাপে সৌমেন্দু অধিকারীকে এই পুরসভা ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমানে সাংসদ হিসেবে তাঁর পুরসভায় আগমনকে ঘিরে পুরসভার দরজা-জানালার পর্দা গেরুয়া-সাদা রঙে সাজানো হয় এবং ফুল দিয়ে সজ্জিত করা হয় গোটা চত্বর।
বিজেপির আরও দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এলাকা তথা কাঁথি পুরসভায়।
কাঁথি পুরসভার ক্ষমতায় তৃণমূল। চেয়ারম্যান পদে রয়েছে তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি। এদিন কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তা সম্ভব হয়নি। কাঁথি পুরসভার মোট আসন ২১টি। তার মধ্যে তৃণমূল-১৭টি, বিজেপি ৩টি এবং নির্দল ১টি আসনে জয়লাভ করে। এখন দেখার অনাস্থা এনে কাঁথি পুরসভা তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে নাকি।



