রাজ্যের খবর

‘সেবাশ্রয়’ দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেক ও তাঁর পলাতক পিএ সুমিতের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বিজেপির

ডায়মন্ড হারবারবাসীকে মারাত্মক ‘টুপি’ পরিয়েছেন অভিষেক? জোর করে ভিড় বাড়ানো থেকে কোটি কোটি টাকার স্বাস্থ্যসাথী কেলেঙ্কারি!

Truth of Bengal: ডায়মন্ড হারবারের গরিব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার নামে শুরু হওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক এবার গড়াল থানা পুলিশে। ওই স্বাস্থ্য শিবিরের আড়ালে ভুয়ো চিকিৎসা এবং কোটি কোটি টাকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ জালিয়াতির অভিযোগে এবার সরাসরি বিষ্ণুপুর থানার দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও নাম রয়েছে তাঁর বেপাত্তা আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার এবং স্থানীয় বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্য-সহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের। এই একই অভিযোগের কপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-র কাছেও পাঠিয়েছেন বিজেপি নেতা।

থানা থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন অভিজিৎ দাস। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “সেবাশ্রয়ের নামে আসলে ডায়মন্ড হারবারের সাধারণ মানুষকে এক বিরাট ‘টুপি’ পরিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” ববি দাসের অভিযোগ, এই ক্যাম্পে মডার্ন চিকিৎসা বা অ্যালোপ্যাথি ওষুধ দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হত কোনও রেজিস্ট্রেশন না থাকা হাতুড়ে এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের। প্রমাণ হিসেবে একটি প্রেসক্রিপশনও দেখান তিনি, যেখানে রোগীর নাম-বয়স থাকলেও রোগের কোনও বিবরণ নেই, কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই, শুধু লেখা, ‘রেফার্ড টু হসপিটাল’। এছাড়া ইউএসজি (USG) মেশিনের মতো সংবেদনশীল সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য যে আইনি অনুমতির প্রয়োজন, তা-ও তোয়াক্কা করেননি অভিষেক। ক্যাম্প সফল দেখাতে জোর করে এলাকার বাসিন্দাদের ধরে এনে ভিড় বাড়ানো হত বলেও দাবি তাঁর।

চিত্র- সংগৃহীত

বিজেপি নেতার এই মামলার পর আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে কিছুদিন আগেই এক চিকিৎসকের করা সেই চাঞ্চল্যকর ফাঁসবোমা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক দাবি করেছিলেন, সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা বিনামূল্যে করার টোপ দিয়ে কার্যত ঘুরপথে সরকারি তহবিল লুঠ করা হত। রোগীদের এমন সব এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হত, যা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় পড়ে না। চিকিৎসকরা এই পরীক্ষাগুলো লিখতেই ওত পেতে থাকা বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মীরা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে নিত।

এরপর সামান্য হাঁটু ব্যথা বা পেটের সমস্যা নিয়ে রোগীকে ১০-১২ দিন হাসপাতালে আটকে রেখে চড়া বিল তৈরি করা হত এবং সেই পুরো টাকাটাই কেটে নেওয়া হত সরকারি ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ফান্ড থেকে। অর্থাৎ, সরকারি প্রকল্পের টাকাই ঘুরপথে চলে যেত অভিষেকের কাছে! মাটির নিচে বিপুল ওষুধ মেলার পর, এবার থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর উধাও হয়ে যাওয়া পিএ সুমিত রায়ের ওপর আইনি ফাঁস যে আরও শক্ত হল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles