ভারতীয় ব্যাপার মহোৎসবে পশ্চিমবঙ্গের প্যাভিলিয়ন
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই উৎসবে তার প্রাণবন্ত উদ্যোগী পরিবেশ, অনন্য কারুশিল্প এবং নতুন ব্যবসার সুযোগগুলি তুলে ধরতে প্রস্তুত।

Truth of Bengal: ‘ভারতীয় ব্যাপার মহোৎসব ২০২৬’-এ পশ্চিমবঙ্গ তার ক্ষুদ্র ছোট মাঝারি উদ্যোগ ক্ষেত্রের সাফল্যের যাত্রাপথ তুলে ধরল। ‘ভারতীয় ব্যাপার মহোৎসব ২০২৬’—ভারতের বৃহত্তম ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’ মাল্টি-সেক্টরাল বা বহু-খাতভিত্তিক বাণিজ্য মেলা—দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী, এমএসএমই, উৎপাদক, শিল্প-নেতৃত্ব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নীতি-নির্ধারকদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই উৎসবে তার প্রাণবন্ত উদ্যোগী পরিবেশ, অনন্য কারুশিল্প এবং নতুন ব্যবসার সুযোগগুলি তুলে ধরতে প্রস্তুত। রাজ্যের প্রগতিশীল উদ্যোগ, দেশীয় পণ্য, আধুনিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রদর্শনের জন্য এখানে একটি বিশেষ এমএসএমই প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দূরদর্শী নেতৃত্বে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্মসংস্থান, নতুন উদ্যোগ গঠন, সর্বজনীন প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে এমএসএমই ক্ষেত্রটিকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। জাতীয় স্তরের এই ব্যবসায়িক মঞ্চে রাজ্যের অংশগ্রহণ এই রূপান্তরকে সবার সামনে তুলে ধরবে; এর মাধ্যমে বাংলাকে কেবল তার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের জন্যই নয়, বরং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে তার ক্রমবিকাশমান রূপটির জন্যও উপস্থাপন করা হবে।
কলকাতার হেমন্ত ভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র মন্ত্রী দীপক বর্মন পশ্চিমবঙ্গ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। এই প্যাভিলিয়নে সমসাময়িক বাংলার বিভিন্ন দিক—যেমন ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পী ও জেলা-ভিত্তিক পণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবসা—তুলে ধরা হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে রাজ্যের সমৃদ্ধ কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে উদযাপন করা হবে এবং দেখানো হবে কীভাবে ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে সমসাময়িক বাজার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।মন্ত্রী দীপক বর্মন এও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা শুরু করাকে আরও সহজলভ্য করেছে, ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসা করার পরিবেশকে শক্তিশালী করেছে এবং উদ্যোগগুলির সম্প্রসারণ ও বাজার, অর্থায়ন, প্রযুক্তি, তথ্য ও সরকারি সহায়তার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পথ তৈরি করেছে।
ঐতিহ্য ও উদ্ভাবন, কারুশৈলী ও প্রযুক্তি এবং তৃণমূল স্তরের উদ্যোগ ও বিশ্বমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য সমন্বয়ে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ প্যাভিলিয়নটিকে ভারত ও বিদেশের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ক্রেতা, শিল্প সংস্থা এবং নীতি-নির্ধারকদের সাথে অর্থপূর্ণ যোগাযোগের একটি মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ভারত সরকারের সহায়তায় আয়োজিত এবং ২০টিরও বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা ‘ভারতীয় ব্যাপার মহোৎসব ২০২৬’ -এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মঞ্চ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে ১,০০০-এরও বেশি প্রদর্শক, ২,০০,০০০-এর বেশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, ৫,০০০-এরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ৫০০-র বেশি বাণিজ্য সংগঠনের অংশগ্রহণ এবং ১০ লক্ষেরও বেশি ক্রেতার সাথে সংযোগের সুযোগ থাকবে; যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ (বিটুবি) এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে বাজারের সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। নয়াদিল্লিতে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোচেম এর সিনিয়র ডিরেক্টর ও পশ্চিমবঙ্গের প্রধান পারমিন্দার জিৎ কৌর , প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার মালিনী ব্যানার্জি।






