রাজ্যের খবর

ইটভাটা মামলায় ধাক্কা কেষ্টর, সিউড়ি আদালতে খারিজ অনুব্রত মণ্ডলের আগাম জামিনের আর্জি

বীরভূমের একটি ইটভাটায় ভাঙচুর এবং প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সিউড়ি জেলা জজ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।

Truth of Bengal: বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার একটি পুরনো মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন এই হেভিওয়েট নেতা। বীরভূমের একটি ইটভাটায় ভাঙচুর এবং প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সিউড়ি জেলা জজ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু মঙ্গলবার আদালতের বিচারক তাঁর সেই আর্জি সটান খারিজ করে দেন। আদালতের এই রায়ের পর আইনি রক্ষাকবচ হারিয়ে কার্যত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন তৃণমূল নেতা, যার ফলে তাঁর নতুন করে গ্রেফতারির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এই হাইপ্রোফাইল মামলার সূত্রপাত বীরভূমের কঙ্কালীতলা অঞ্চলের পাথরঘাটার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মামলার মূল অভিযোগকারী হলেন বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা তথা দীর্ঘ ৩৫ বছরের পুরোনো ইটের ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডল। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে শাসকদলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। অভিযোগ, খোদ অনুব্রত মণ্ডলের সবুজ সংকেত পেয়ে কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী শুভেন্দুর ইটভাটায় চড়াও হয়। সেখানে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ।

ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডলের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের তোলাবাজির টাকা দাবি করত। সেই টাকা না দেওয়ায় এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ার কারণে তাঁর ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে শুভেন্দু মণ্ডল শান্তিনিকেতন থানায় অনুব্রত মণ্ডলসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি নতুন করে লিখিত এফআইআর দায়ের করেন।

থানায় মামলা রুজু হতেই গ্রেফতারি এড়াতে তড়িঘড়ি সিউড়ি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু মঙ্গলবার আদালতের রায়ে সেই আশায় জল পড়ে গেল। যে নেতার অঙ্গুলিহেলনে একসময় গোটা বীরভূম জেলা কাঁপত, তাঁর এই আইনি বিপর্যয় জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন এই নিয়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে যে, এবার কি তবে ফের শ্রীঘরে যেতে হবে কেষ্টকে?