কালীঘাটের পর ঋতব্রতর সঙ্গেও কুণাল! একই সঙ্গে দুই নৌকোয় পা? মুখ খুললেন বিধায়ক
কুণালের এই উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে
Truth of Bengal: ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের দুই ভিন্ন শিবিরেই দেখা গেল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তপসিয়ায় পুরনো তৃণমূল ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে চলে যান মেট্রোপলিটনে, যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি চলছিল। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কুণাল। তপসিয়ায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে কুণালের সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতা এবং ছাত্র-যুবরা। মেট্রোপলিনের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কুণাল জানান, তাঁর যাতায়াতের রাস্তার উপরই ওই কর্মসূচি চলছিল। নিজের মূল কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে তিনি দেখতে পান, তৃণমূলের নাম করে সেখানে পতাকা তোলা হচ্ছে এবং দলের অনেক পরিচিত মুখ উপস্থিত রয়েছেন। এরপরই গাড়ি থেকে নেমে কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি।
কুণালের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার মধ্যেই চলছিল ঋতব্রত শিবিরের এই অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র-সহ একাধিক নেতা, যাঁরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে সরে ঋতব্রতদের সঙ্গে রয়েছেন। চন্দ্রিমা-সহ কয়েকজনের অনুরোধে ওই অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন কুণাল। কুণালের এই উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার তাঁর এই সফরকে ‘নৌকা বদলের’ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কটাক্ষ, “কুণাল ঘোষ আমাদের এখানে এসেছিলেন। কলিং বেল বাজিয়ে গিয়েছেন। কিছু দিন পরে লাগেজ নিয়ে চলে আসবেন।” তবে সেই সম্ভাবনা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। বরং ঋতব্রত শিবিরের মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি মমতার নাম নিয়েছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
কুণাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল তৈরি হয়েছে এবং তাঁকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা যাঁরা করছেন, তাঁদের সামনে দাঁড়িয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “দু’নৌকায় পা দিয়ে কুণাল ঘোষ চলে না। একটা পা ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকতে, আর একটা লাথি মারতে।” নিজের বক্তব্যে বিজেপির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নিয়েও পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে একটি মহিলার ধর্ষণের অভিযোগ এবং পরবর্তী অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তদন্তের দাবি জানান কুণাল। কুণাল শিবির বদল করতে পারেন—এমন জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। কেউ শ্রদ্ধা জানাতে এলে তাঁকে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। চন্দ্রিমার কথায়, কুণাল ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন—এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেন কুণাল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে অনন্ত মহারাজকে গ্রেফতার এবং সাংসদপদ খারিজের দাবি জানান তিনি।
কুণালের বক্তব্য, বিজেপি যদি সত্যিই নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে প্রথমে অনন্ত মহারাজকে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি বিজেপি সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্বাধীন দেশের নাগরিক হলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই চলবে বলেও ফের স্পষ্ট করেন কুণাল।






