দেশ

পর পর দু’বছর লালকেল্লায় অনুপস্থিত বিরোধী নেতৃত্ব! স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বয়কটের নেপথ্যে আসন বিতর্ক?

উল্লেখ্য, গত বছর লালকেল্লার অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে পঞ্চম সারিতে বসানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

Truth of Bengal: গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও লালকেল্লার ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত রইলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। টানা দুই বছর ধরে স্বাধীনতা দিবসের মতো দেশের এক ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় উদযাপনে তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও চর্চা শুরু হয়েছে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন বিন্যাস এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল তাঁদের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদমর্যাদা অনুযায়ী না হওয়ার কারণেই রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, সরকারি ‘অগ্রাধিকার ক্রম’ (Table of Precedence) মেনে অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে আসন নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদমর্যাদা একজন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য এবং এই প্রোটোকল সম্পূর্ণরূপে সাংবিধানিক পদের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয়, যার সাথে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, গত বছর লালকেল্লার অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে পঞ্চম সারিতে বসানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কংগ্রেস দল অভিযোগ তুলেছিল যে, সরকার সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলনেতার পদের অবমূল্যায়ন করছে। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সেই সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অলিম্পিক অ্যাথলিটদের বিশেষ সম্মান জানাতে এবং সামনের সারিতে জায়গা দিতেই এই সাময়িক পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর আগে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও তাঁদের তৃতীয় সারিতে বসানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের আসন বিন্যাস সম্পূর্ণভাবে ‘টেবিল অফ প্রেসিডেন্স’ মেনেই করা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লার প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে বিরোধীদের কড়া ভাষায় নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দাবি করেছিলেন দেশে গ্যাস বা পেট্রোল পাওয়া যাবে না। চাষিদের ইউরিয়া সার না পাওয়ার ভয় দেখিয়ে একদল মানুষ আনন্দ পাচ্ছিলেন। তবে সংকটের সময়েও দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রস্তুত ছিল। করোনা মহামারী থেকে শুরু করে জ্বালানি সংকট— প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরোধীরা কেবল অপপ্রচারই চালিয়ে গিয়েছে।”

Related Articles