রাজ্যের খবর

টুলু-লিঙ্ক খুঁজতেই অনুব্রতর দেহরক্ষীর বাড়িতে হানা রাজ্য পুলিশের!

সাহগল হোসেন দীর্ঘদিন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন

Truth of Bengal: গরু পাচার-কাণ্ডে নাম জড়ানো অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সাহগল হোসেনের বোলপুরের ফ্ল্যাটে এবার তল্লাশি চালাল রাজ্য পুলিশ। ইডি এবং সিবিআইয়ের পর শুক্রবার গভীর রাতে বাইপাস সংলগ্ন ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয় বীরভূম জেলা পুলিশের একটি দল। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, রাত থেকেই সেখানে তল্লাশি অভিযান চলছে। সাহগল হোসেন দীর্ঘদিন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গরু পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীন ইডি ও সিবিআইয়ের নজরেও এসেছিলেন তিনি। তাঁর সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি আগে একাধিকবার খোঁজখবর নিয়েছে বলে জানা যায়।

এর আগে এই একই ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছিল ইডি ও সিবিআই। এবার সেখানে পৌঁছল রাজ্য পুলিশ। তল্লাশিতে টাকার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও ঠিক কোন মামলার সূত্রে এই অভিযান, তা এখনও সরকারি ভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। সাহগল হোসেনের সঙ্গে নতুন কোনও অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষ করে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে একই রাতে বীরভূমের ভূমি দপ্তরের এক কর্মীর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ সিউড়িতে প্রবীর দাসের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল। প্রবীর দাস সিউড়ি সদর মহকুমার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে হেড ক্লার্ক পদে কর্মরত। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

বীরভূমে টুলু মণ্ডলের বিপুল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও সম্পত্তির তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ঘনিষ্ঠদের একে একে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করা হয়েছে। টুলুর ম্যানেজারের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধারের কথাও জানা গিয়েছে। সেই ডায়েরিতে কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের নাম রয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। সেই সূত্র ধরেই প্রবীর দাসের বাড়িতে তল্লাশি কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রবীরের বন্ধু ও সহকর্মী শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তদন্তকারীরা প্রবীরকে টুলু মণ্ডল সম্পর্কে একাধিক প্রশ্ন করেছেন।