“পাঁচ বছর আগে এমন মুখ্যমন্ত্রী থাকলে মেয়েকে হারাতে হত না”, শুভেন্দুর অ্যাকশনে চোখজল অভয়ার মায়ের!
এনআরএসের নার্সের মৃত্যুতেও বিচার দাবি! দুই অপরাধী গ্রেফতার হতেই আবেগঘন বার্তা অভয়ার পরিবারের!
Truth of Bengal: ৯ আগস্ট অভয়ার স্মরণ সভা থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভয়ার বাবার লিখিত অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুই দিনের মাথায় রাজ্য পুলিশের জোরদার অ্যাকশনে ধরা পড়ল দুই প্রভাবশালী অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। আর তার পরেই গভীর রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েন অভয়ার তথাকথিত ‘কাকু’ তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। প্রশাসনের এই চরম তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে অভয়ার পরিবার। ঘটনার পর সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে খোলাখুলি ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভয়ার মা।
গত ৯ আগস্ট অভয়ার স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “দয়া করে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করুন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। আমি নিজের কথার প্রতি দায়বদ্ধ।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১০ আগস্ট খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান অভয়ার বাবা। এর পরপরই তদন্তে গতি আনে পুলিশ। ১৩ আগস্ট সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতারের পর, লুধিয়ানা থেকে ফেরা মাত্রই অভয়ার প্রতিবেশী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, গ্রেফতারি নিশ্চিত জেনে সঞ্জীব নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দিতে বাধ্য হন।
প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেছেন অভয়ার মা। তিনি লিখেছেন, “প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে তফাৎ আজ স্পষ্ট। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যে কথা দিয়েছিলেন, প্রশাসন সেই মতো কাজ শুরু করায় দুজন অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। বাংলার সব মা-মেয়ের সুরক্ষা আজ সুনিশ্চিত, কারণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ভাই ও দাদার ভূমিকা পালন করছেন।” একইসঙ্গে আক্ষেপের সুরে তিনি যোগ করেন, “পাঁচ বছর আগে যদি এমন মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকতেন, তবে হয়তো আমার মেয়েকে আজ কাড়তে পারত না কেউ।”
শুধু অভয়া কাণ্ডই নয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এনআরএস হাসপাতালের নার্সের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়েও সরব হয়েছেন অভয়ার মা। তিনি উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন পাশবিক অপরাধ করার সাহস না পায়।






