জামদানিতে ৪৮ বার লেখা ‘বন্দে মাতরম’, অনন্য সৃষ্টি ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীর
এই অভিনব ভাবনার নেপথ্যে রয়েছেন সদ্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুলিয়ার প্রখ্যাত তাঁতশিল্পী অভিনব বসাক।
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: স্বাধীনতা দিবসের আবহে দেশাত্মবোধের এক অনন্য নিদর্শন তৈরি করলেন নদিয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীরা। মাত্র সাড়ে ছয় মিটার দীর্ঘ একটি খাঁটি সুতির জামদানি শাড়ির জমিনে সুতোর টানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’ শব্দবন্ধ ৪৭ থেকে ৪৮ বার। সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই বিশেষ শাড়ি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে তাঁতশিল্পী ও শিল্পরসিকদের।
এই অভিনব ভাবনার নেপথ্যে রয়েছেন সদ্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুলিয়ার প্রখ্যাত তাঁতশিল্পী অভিনব বসাক। তাঁর দেশাত্মবোধক ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন আর এক দক্ষ তাঁতশিল্পী শচীন বিশ্বাস। অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে জামদানি শাড়ির জমিনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’।
শুধু নকশা বা অলঙ্করণের জন্য নয়, জাতীয় ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ শাড়ি। শিল্পীদের দাবি, শাড়িটি বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়নি। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, স্বদেশি ভাবনা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করাই এই সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।
জামদানি বুননে এমনিতেই প্রয়োজন হয় অসীম ধৈর্য, দক্ষতা এবং সূক্ষ্ম হাতের কাজের। তার উপর শাড়ির জমিনে বার বার একই শব্দ নিখুঁত অক্ষরে ফুটিয়ে তোলা ছিল আরও কঠিন কাজ। সুতোর টানে প্রতিটি অক্ষরকে স্পষ্ট করে তোলার জন্য প্রয়োজন হয়েছে বিশেষ নকশা ও দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তৈরি এই শাড়িতে তাই একসঙ্গে মিশেছে দেশপ্রেম, বাঙালির তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতা। ‘বন্দে মাতরম’-এর অক্ষরে অক্ষরে যেন ধরা পড়েছে স্বাধীনতার আবেগ। শান্তিপুরের তাঁতে তৈরি এই ব্যতিক্রমী সৃষ্টি শুধু একটি শাড়ি নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও বাংলার কারুশিল্পকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা এক অনন্য স্মারক।






