রাজ্যের খবর

পুলিশের ধরপাকড়ে পথে নামতে নারাজ! ছেলের হয়ে রেজিনগরে সমাজমাধ্যমেই প্রচারে হুমায়ুন কবীর

দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে আগেই প্রকাশ্য প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

Truth of Bengal: রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে নতুন কৌশল নিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে আগেই প্রকাশ্য প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এবার ছেলে তথা দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদের সমর্থনে সমাজমাধ্যমকেই প্রধান হাতিয়ার করলেন নওদার বিধায়ক। মঙ্গলবার থেকেই নিজের ফেসবুক পেজে ভোটের প্রচার শুরু করেছেন তিনি। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার আগে হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, তিনি বা দলের নেতারা প্রচারে বেরোলেই কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠে প্রচারের বদলে প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে ভিডিও ও বার্তার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রবিবারই তিনি জানিয়েছিলেন, প্রশাসনের আচরণের প্রতিবাদে আপাতত রাস্তায় প্রচার করবেন না।

মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভোটারদের উদ্দেশে হুমায়ুন লেখেন, এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই তাঁর দল নির্বাচনে লড়ছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত রেজিনগরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও বার্তা দেন তিনি। হুমায়ুনের অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা তুলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই অভিযোগে তিনি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছেও নালিশ জানিয়েছেন। যদিও পুলিশের বক্তব্য, নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সোমবার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা হুমায়ুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁকে ফের ২৩ সেপ্টেম্বর হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রতীক নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাঁশি’ প্রতীক নিয়ে লড়েছিল দল। কিন্তু রেজিনগর উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন তাদের ‘টেবিল’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘বাঁশি’ এখন তামিলনাড়ুর স্বীকৃত দল TVK-র সংরক্ষিত প্রতীক। অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে উপনির্বাচনে ফ্রি-সিম্বল তালিকা থেকে নতুন প্রতীক দেওয়া কমিশনের এখতিয়ার। সেই কারণেই AJUP-কে ‘টেবিল’ দেওয়া হয়েছে।

হুমায়ুন অবশ্য দাবি করেছেন, আগে বাঁশি প্রতীক চেয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তখন কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। প্রচুর পোস্টার-ব্যানার ছাপানোর পর শেষ মুহূর্তে প্রতীক বদলে যাওয়ায় নতুন প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এদিকে দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদকেও প্রকাশ্য প্রচার থেকে দূরে থাকার কথা বলতে শোনা গিয়েছে। হুমায়ুনের দাবি, যাঁদের সঙ্গে তাঁরা প্রচারে দেখা করছেন, তাঁদের ছবি তুলে রাখা হচ্ছে এবং পরে পুলিশি পদক্ষেপ হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হয়নি। সব মিলিয়ে রেজিনগরের উপনির্বাচনে এবার রাস্তার মিছিল-মিটিংয়ের বদলে ডিজিটাল প্রচারে জোর দিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। পুলিশি পদক্ষেপ, প্রতীক বদল এবং মাঠের প্রচার বন্ধ—এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখেই ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাইছে তাঁর দল।

Related Articles