“৭০-৩০ শতাংশের বিভাজনের নোংরা খেলা বন্ধ করুন!”, রেজিনগরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর
রেজিনগরে রাষ্ট্রবাদের বার্তা নিয়ে ‘মডেল বিধানসভা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: উপনির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রবাদের ঝড় তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে এক জনসভায় উপস্থিত হয়ে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিকে চিরতরে বর্জন করার কড়া বার্তা দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অসাধু নেতাদের সস্তা ‘৭০-৩০ শতাংশের’ রাজনীতি ফেলে মানুষ যেন উন্নয়নের পক্ষে রায় দেন। ফলতার মতো রেজিনগরকেও এবার একটি আধুনিক মডেল বিধানসভায় রূপান্তর করার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চ থেকে রেজিনগরবাসীকে অভয় দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো রেজিনগরকেও আমি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে মনে করব। এলাকাতেই তৈরি হবে নেতাজি সুভাষ সেবাকেন্দ্র, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি পরিষেবা পাবেন।” রেজিনগরের জ্বলন্ত পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অভয় দেন, “এখানকার প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক ভিনরাজ্যে কষ্ট করছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে তাঁদের বাংলায় ফিরিয়ে এনে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। আগামী ৬ মাসের জন্য ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।”
এর পাশাপাশি শিল্পায়নের জোরালো গ্যারান্টি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রেজিনগর শিল্পতালুক গড়ে তোলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার। জমি ইতিমধ্যেই দেখা হয়ে গিয়েছে। বিশ্বাস রাখুন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে কারখানার ধোঁয়া দেখতে পাবেন। ঘরের শ্রমিকরা নিজের গ্রামেই কাজ পাবেন।” এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমস্ত কল্যাণমুখী প্রকল্পে যোগ্য সংখ্যালঘু নারীদের কোনো রকম ভেদাভেদ ছাড়াই শতভাগ অন্তর্ভুক্ত করার কড়া প্রতিশ্রুতি দেন প্রশাসনিক প্রধান।
নিজের বক্তব্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর এবং ক্ষমতাচ্যুত দুই তৃণমূলকে কড়া ভাষায় বিধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের শাসকদলের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। ওরা এখন ‘মমতা তৃণমূল’ আর ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’, এই দুই ভাঙা টুকরোয় পরিণত হয়েছে।” নাম না করে ছেলে গোলাম নবী আজাদকে ভোটে দাঁড় করানো হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা ধর্মীয় মেরুকরণ করে মানুষের মৃত্যু কামনা করে, তাঁদের রাজনৈতিক পতন আবশ্যিক। সরকারের পক্ষে ভোট দিয়ে শাখারভ সরকারকে বিধানসভায় পাঠান, রেজিনগরের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেব।”






