রাজ্যের খবর

বাড়ি থেকে চেয়ার এনে ফের থানার দরজায় হুমায়ুন! রেজিনগরে শুরু ধর্না

দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রেজিনগর থানার সামনে ধরনায় বসলেন তিনি

Truth of Bengal: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ফের পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রেজিনগর থানার সামনে ধরনায় বসলেন তিনি। পুলিশি হুমকি বন্ধ না হলে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হুমায়ুন। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ওই আসনের উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছে তাঁর দল।

হুমায়ুনের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। একাধিক ব্লক ও রাজ্য স্তরের নেতা-কর্মীকে পুরনো এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। এই ঘটনার প্রতিবাদেই রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানে বসেন তিনি। হুমায়ুন বলেন, “বিজেপির কথায় পুলিশ আমার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে বেলডাঙা, রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ আধিকারিকদের বদলির দাবি জানাচ্ছি। কর্মীদের উপর পুলিশি হুমকি বন্ধ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আগাম নোটিস ছাড়াই যে কোনও সময় থানার সামনে ধরনায় বসব।” রেজিনগর থানার ওসির বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, স্থানীয় পুলিশ বিজেপি এবং এনসিপি সাংসদ আবু তাহের খানের হয়ে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দালালি বন্ধ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরনা চলবে। ভোট লুট করে জেতার চেষ্টা হচ্ছে। এই ভোট লুট জীবন দিয়েও রুখব আমি।”

রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামনে এসেছে। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত লড়বেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একের পর এক নেতা-কর্মীর গ্রেফতারির অভিযোগ সামনে এসেছে। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর শক্তিপুর থানার সামনেও একই ধরনের অভিযোগে ধরনায় বসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার রেজিনগর থানার সামনে অবস্থান করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

Related Articles