দেশ

দিল্লিতে তুলকালাম! নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অতীশী-বৃন্দা সহ আটক অন্তত ১১০০

আটক করা হল দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী-সহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা, ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিকে

Truth of Bengal: পুলিশের অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে এগোতেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি। আটক করা হল দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী-সহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা, ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিকে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, দিনভর বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটকদের মধ্যে রয়েছেন AAP নেত্রী অতিশী, দিল্লি AAP সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, সাংসদ সঞ্জয় সিং, CPM পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট, AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব-সহ একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মী। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাকেও আটক করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচির সঙ্গে AISA-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন। আয়োজকদের মধ্যে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের নামও উঠে এসেছে। কিন্তু আগেই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য জমায়েতের কথা মাথায় রেখে যন্তর মন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং সংলগ্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়। বসানো হয় ব্যারিকেড। ১১টি মেট্রো স্টেশনের একাধিক প্রবেশ ও বেরনোর গেটও বন্ধ রাখা হয়। তার পরেও সকাল থেকেই ছোট ছোট দলে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ তাঁদের আটকে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। যন্তর মন্তরে পৌঁছতে না পেরে পরে জনপথ এলাকাতেও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে জমায়েতকারীদের পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়।

অতিশী-সহ AAP নেতাদের আটক ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে CPM এবং বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। বৃন্দা কারাট-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াসহ একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এর আগে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, SIR-এর উদ্দেশ্য হল মৃত, অযোগ্য বা ডুপ্লিকেট নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করা। শুধু দিল্লি নয়, একই দাবিতে মুম্বইতেও আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP। শিবাজি পার্কে তাদের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। এরপর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠন।

CJP জানিয়েছে, মুম্বইয়ের পর কলকাতা, বেঙ্গালুরু, গোয়া-সহ দেশের আরও কয়েকটি শহরে একই ধরনের কর্মসূচি করা হবে। ফলে নির্বাচন কমিশন ও SIR ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক-ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

Related Articles