রাজ্যের খবর

ঝাড়গ্রামে তীব্র চাঞ্চল্য! ঝাড়ফুঁকের নামে গৃহবধূর শ্লীলতাহানি, পুলিশের জালে ভণ্ড তান্ত্রিক

ঘরে ঢুকে গৃহবধূর অশালীন স্পর্শ! ঝাড়গ্রামে ভণ্ড তান্ত্রিক শম্ভু মাহাতোর পৈশাচিক কাণ্ড

Truth of Bengal: তন্ত্রসাধনা ও কবিরাজির কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ! কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে অসুস্থ মহিলার শরীরে অশালীন স্পর্শের অপরাধে শম্ভু মাহাতো নামে এক ভণ্ড তান্ত্রিক তথা কবিরাজকে গ্রেফতার করল ঝাড়গ্রামের জামবনি থানার পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তের বাড়ি জামবনি থানার অন্তর্গত শালপাতড়া গ্রামে। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শম্ভুকে গ্রেফতার করে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত শম্ভু মাহাতো ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে শিকড়বাকড় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁক করছিল। ঘটনার দিন স্থানীয় এক তরুণী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তন্ত্রসাধনার নাম করে শম্ভুকে ওই মহিলার বাড়িতে ডাকা হয়। সেই সময় বাড়িতে এক শিশু ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে শম্ভু ওই শিশুকে চালাকি করে ঘরের বাইরে বসিয়ে রেখে ঘরের দরজা ভেজিয়ে দেয়। অভিযোগ, এরপরই ঝাড়ফুঁকের ছলে ওই অসুস্থ গৃহবধূর ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায় সে। শরীরের একাধিক সংবেদনশীল স্থানে অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে লোকলজ্জা ও আতঙ্কের কারণে কাউকে কিছু বলতে পারেননি আক্রান্ত গৃহবধূ। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সমস্ত বিবরণ জানিয়ে জামবনি থানায় তান্ত্রিক শম্ভু মাহাতোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জামবনি থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে শালপাতড়া এলাকা থেকে অভিযুক্তকে জালে তোলে।

ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, “অভিযোগকারী মহিলা অসুস্থতার কারণে ওই লোকটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।” বৃহস্পতিবার ধৃত তান্ত্রিককে ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

Related Articles