২৫ কোটির ফাপা প্রতিশ্রুতি, পর পর চেক বাউন্স! হুমায়ুনকে ক্লাব থেকে তাড়াল মহামেডান
মহামেডানের ১০০ বছরের ইতিহাসে 'কালো অধ্যায়'! জরুরি বৈঠকের পর নতুন সভাপতি গজল জাফর
Truth of Bengal: আর্থিক সংকট দূর করার বিশাল সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্লাবের শীর্ষ কুর্সিতে বসেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, মেলেনি কোনও অর্থ। উল্টে একের পর এক সই করা চেক বাউন্স করে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছেন ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে। অবশেষে নওদার বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে ছেঁটে ফেলল মহামেডান স্পোর্টিং। বৃহস্পতিবার ক্লাবের এক জরুরি কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্লাবের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গজল জাফরকে।
বারবার চেক বাউন্স ও আইনি নোটিস
মহামেডান সূত্রের খবর, বাংলায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মহামেডান ম্যানেজমেন্ট ঢেলে সাজানো হয়েছিল। সেই সময়ে ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, তিনি ক্লাবের প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক সমস্যা মেটাবেন এবং বকেয়া ১৩ কোটি টাকার দেনা পরিশোধে সাহায্য করবেন। কিন্তু অভিযোগ, ক্লাবের কোষাগারে এক টাকাও ঢোকেনি। উল্টে ক্লাবের অনুকূলে দেওয়া তাঁর মোট দেড় কোটি টাকার একাধিক চেক পর পর তিনবার বাউন্স করেছে!
এই ঘটনায় চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন ক্লাবের কর্মকর্তারা। বিধায়কের এমন অনভিপ্রেত আচরণ ও উদ্দেশ্যের আইনি জবাব দিতে সোমবার তাঁকে ক্লাবের তরফ থেকে একটি কড়া নোটিসও পাঠানো হয়েছিল।
জরুরি বৈঠক ও অপসারণ
আইনি নোটিসের পরও হুমায়ুনের কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠক ডাকে মহামেডান কমিটি। ওই বৈঠকে প্রাক্তন সভাপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আসেননি। অন্যদিকে, মহামেডান মাঠের বাইরে ‘টাকা কবে পাব’ লেখা পোস্টার ঘিরেও ক্ষোভ ছড়াতে থাকে। সব দিক খতিয়ে দেখে কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, হুমায়ুনকে আর এক মুহূর্তও সভাপতির পদে রাখা সম্ভব নয়।
ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম স্পষ্ট জানান, ক্লাবের সংবিধান মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীরের মতো একজন মানুষকে সভাপতি হিসেবে পাওয়া মহামেডান ক্লাবের ইতিহাসে পরম এক কালো অধ্যায়।” তবে বিদায়ী সভাপতিকে সরিয়ে দিলেও, বিশাল অঙ্কের বকেয়া দেনা ও আর্থিক সংকট কীভাবে দূর হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর দুশ্চিন্তায় ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ব্রিগেড।






