‘আপনার কাজে দেশ গর্বিত!’ ফ্লাইদুবাই ককপিট কাণ্ডের নায়ক স্মিতকে কুর্নিশ মোদির
শুক্রবার ফোনে স্মিতের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী
Truth of Bengal: মাঝ আকাশে রক্তাক্ত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি। নিজের জীবন তখন বিপন্ন, তবু বিমানে থাকা শতাধিক মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলেছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভ উড়ানে সম্ভাব্য ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানোর পর তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিতের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বার্তা দিলেন, “আপনার কাজে দেশ গর্বিত।” শুক্রবার ফোনে স্মিতের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। গুরুতর আহত অবস্থাতেও যেভাবে তিনি পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, তার প্রশংসা করেন মোদি। দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে যে কোনও সময়ে যোগাযোগ করার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্মিত। জানান, কোনও দিন ভাবেননি এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হবে। মোদিও তাঁকে সাহস জোগান। কথোপকথনে স্মিত জানান, গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর এক সময় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখনই বুঝেছিলেন, আবার উঠে দাঁড়াতেই হবে। নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানের অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তাও নির্ভর করছে তাঁর পদক্ষেপের উপর। দীর্ঘদিনের উড়ান অভিজ্ঞতার কথাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন স্মিত। জানান, বহু বছর ধরে বিমান চালানোর কারণে ককপিটে কী ঘটছে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তা বুঝতে পারছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সর্বশক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা খুলে যাওয়ার পর কেবিন ক্রু, যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে দুই অফ-ডিউটি পাইলট বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করাতে সাহায্য করেন।
নিজের কৃতিত্ব একা নিতে চাননি স্মিত। তাঁর বক্তব্য, বিপদ কাটিয়ে ওঠার পিছনে বিমানে থাকা অন্যদেরও সমান ভূমিকা ছিল। কথোপকথনে আরেকটি ব্যক্তিগত কথাও জানান ভারতীয় পাইলট। বিপদের মুহূর্তে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন। মাঝ আকাশে হামলার সময়ও তাই করছিলেন বলে জানান স্মিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য গোটা দেশ প্রার্থনা করছে। মোদি স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ নেওয়ার জন্য নয়, অন্যের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে নিজেদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে প্রস্তুত—স্মিতের কাজ তারই উদাহরণ।






