রাজ্যের খবর

“নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল, বাঘ তো ছিলই না!”, আলিপুরদুয়ারে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘিনী মুক্ত করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: পর্যটন হাবের ঘোষণা ও পূর্বতন সরকারকে কড়া তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উত্তরবঙ্গের গহীন জঙ্গলে ফিরল বাঘের গর্জন। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হল বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা বাঘিনীকে। ঐতিহাসিক এই ক্ষণের স্বচক্ষে সাক্ষী থাকলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপরেখা উন্মোচন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেবল একটি বাঘিনীই নয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে বক্সার বনাঞ্চলে আরও তিনটি বাঘ আনা হবে। পাশাপাশি জয়ন্তী সংলগ্ন প্রায় ২ হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হবে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল পর্যটন কেন্দ্র। এজন্য কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রীকে ইতিমধ্যে জমি পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

আলিপুরদুয়ারের এই সভামঞ্চ থেকেই উন্নয়নমূলক বার্তার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিগত দিনে এটি নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল, বাস্তবে এখানে কোনও বাঘই ছিল না। আগের সরকারের ইচ্ছাশক্তির চরম অভাব ছিল, তারা কেবল কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করেছে।” এরপরই ২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষের ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে রাজাবাজার থেকে আলিপুরদুয়ারের প্রতি ঋণের মর্যাদা রাখা হবে।

উত্তরবঙ্গের সার্বিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার নিরলস কাজ করছে। রাজ্যের চারটি নতুন মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও বালুরঘাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উৎসবের মরশুমে চা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস এবং বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “২০২১ সালে চা বাগানের উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল ফান্ড বরাদ্দ করলেও আগের সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১২৫ দিনের মধ্যেই চা বাগান শ্রমিকদের জন্য ৩১২ কোটি টাকা অনুমোদন করিয়ে এনেছে।”

পূজো মেটার পর উত্তরবঙ্গে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর আদিবাসী দিবসে তিনি পুনরায় আলিপুরদুয়ারে আসবেন। প্রশাসনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত টোটোপাড়ায় উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তিনি সময় কাটাবেন।

Related Articles