কলকাতারাজ্যের খবর

‘বাঘ থেকে বিড়াল কেষ্ট!’ ‘যেমন করেছে, তেমনই ফল পাচ্ছে’, অনুব্রত কাণ্ডে মুখ খুললেন দিলীপ

অনুব্রতের বর্তমান পরিস্থিতিকে তাঁর অতীত রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে কটাক্ষ করেছেন দিলীপ

Truth of Bengal: এক সময় বীরভূমের রাজনীতিতে তাঁর দাপটের কথা বলতে গিয়ে ‘বাঘ’ উপমা ব্যবহার করতেন অনুগামীরা। সেই অনুব্রত মণ্ডলকেই এবার নিজের দলের অফিসে তিন যুবকের বিক্ষোভ, হুমকি এবং ভাঙচুরের মুখে পড়তে হয়েছে। বুধবার রাতের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এবার মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। অনুব্রতের বর্তমান পরিস্থিতিকে তাঁর অতীত রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে কটাক্ষ করেছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতিতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কখনও কেউ উপরে থাকেন, আবার সময় বদলালে তাঁকেই নীচে নামতে হয়। ক্ষমতায় থাকার সময় তার সঠিক ব্যবহার করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপের অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল এবং বহু মানুষ তার ফলে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “রাজনীতি এরকমই। কেউ কখনও উপরে, আবার কেউ কখনও নিচে। ক্ষমতা পেলে তার সঠিক ব্যবহার করতে হয়। যেমন করেছে, তেমনই ফল পাবে।”

তবে কোনও রাজনৈতিক ক্ষোভের জবাব মারধর বা হিংসার মাধ্যমে দেওয়া উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, প্রতিশোধ হিসেবে হামলাকে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ কখনও কখনও এভাবেই প্রকাশ্যে চলে আসে। বুধবার সিউড়ির পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন অনুব্রত। সেই সময় লাঠি ও মোটা গাছের ডাল হাতে তিন যুবক অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। অনুব্রতের সামনেই চেয়ার, টেবিল, কাচের জানলা এবং এসি-সহ একাধিক জিনিস ভাঙচুর করা হয়। অনুব্রতের পোশাকের কলার ধরে তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার ভিডিয়োয় তাঁকে হাতজোড় করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তিন যুবকের দাবি, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। যদিও পুলিশ তাঁদের নিয়ে যাওয়ার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান শোনা যায়। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “জয় শ্রীরাম বিজেপির স্লোগান নয়। ভারতের যে কোনও মানুষ জয় শ্রীরাম বলতে পারেন। কারা করেছে, সেটা প্রশাসন বলতে পারবে।”

একই সঙ্গে অনুব্রতকে কটাক্ষ করে দিলীপের মন্তব্য, “আমার মনে হয় না কেষ্টর মারাত্মক কোনও আঘাত লেগেছে। তবে এটা ঠিক, ওর যা পাওনা ছিল, কাল ওরা অনেকটা মিটিয়ে দিয়েছে।” নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন দিলীপ। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় তিনি বীরভূমে রাজনৈতিক সভা করার অনুমতি পাননি। একবার অনুমতি মিললেও সভাস্থলে জল ঢুকিয়ে কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ তো রাতারাতি সব ভুলে যাবে না। তবে আমাদের শান্তি বজায় রেখে বাংলার উন্নতি করতে হবে।” ঘটনার পর তিন যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল বা তাঁর দলের তরফে অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রের খবর। এক সময় যে বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা হত, সেই জেলাতেই তাঁর সামনে এমন ঘটনা নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Related Articles