কলকাতা

কয়েক মাসেই সুর বদল? বিজেপি ও পাপিয়া অধিকারীর প্রশংসায় কবীর সুমন

রাজনৈতিক পালাবদলের কয়েক মাস পর সেই কবীর সুমনের মুখেই এবার বিজেপি সরকার ও বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাজের প্রশংসা

Truth of Bengal: মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধান। মার্চ মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে বসে বিজেপিকে ‘গবেট’ ও ‘নিরেট’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন কবীর সুমন। অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। আর রাজনৈতিক পালাবদলের কয়েক মাস পর সেই কবীর সুমনের মুখেই এবার বিজেপি সরকার ও বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাজের প্রশংসা! বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসা তাঁর একটি ভিডিও ঘিরে তাই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা। কবীর সুমনের রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। প্রতিবাদী গান, শাসকের বিরুদ্ধে প্রশ্ন এবং সামাজিক নানা বিষয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

চলতি বছরের মার্চেও এসআইআর-এর প্রতিবাদে মমতার ধরনা মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন সুমন। সেখান থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি দাবি করেন, নিজেকে কখনও তৃণমূলপন্থী বলে মনে করেননি এবং তাঁকে অনুরোধ করেই নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়েছিল। সেই আবহেই এবার প্রকাশ্যে এসেছে নতুন ভিডিও। সেখানে নিজের এলাকার একটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন কবীর সুমন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির কাছের একটি বড় গাছের ডাল ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছিল। স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

সুমনের দাবি, বিষয়টি জানার পর দ্রুত পদক্ষেপ করেন বিধায়ক। প্রশাসনের তরফে গাছ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়। পরে এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিলেও সেটিও দ্রুত মেরামত করা হয়। আর সেই পরিষেবাতেই সন্তুষ্ট বর্ষীয়ান শিল্পী। ভিডিওয় তিনি বলেন, “আলো, জল পাচ্ছি, ময়লা সরানো হচ্ছে, মোটামুটিভাবে এর বাইরে এর বেশি ভাবতেও পারছি না। সকলের মঙ্গল হোক।” পাপিয়া অধিকারীর কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি। কয়েক মাস আগেও যে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন, এবার সেই দলের সরকারের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ তাঁর অবস্থান বদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ আবার কটাক্ষ করেছেন। এমনকি একাংশ মন্তব্য করেছেন, “এবার উনি সুমন চট্টোপাধ্যায় হবেন!”

তবে কবীর সুমনের বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কোনও ঘোষণা নেই। তিনি মূলত নিজের এলাকায় পাওয়া নাগরিক পরিষেবা এবং বিধায়কের উদ্যোগের প্রশংসাই করেছেন। কিন্তু মার্চের তীব্র বিজেপি-বিরোধিতা আর অক্টোবরের এই প্রশংসা—দুই ছবির ফারাকই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার নতুন খোরাক।

Related Articles