
The Truth Bengal: পাহাড় , সমুদ্র, জঙ্গল ছাড়াও বাংলায় রয়েছে অসংখ্য তীর্থক্ষেত্র । বাংলার সতীপীঠগুলোর প্রতি ভক্তদের আকর্ষণের শেষ নেই। গ্রাম্য পরিবেশে গ্রাম্য সংস্কৃতি এই সব সতীপীঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এমনই এক সতীপিঠ বা শক্তিপিঠ রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম সংলগ্ন দক্ষিণডিহি গ্রামে। এই গ্রামের শেষ ভাগে রয়েছে অট্টহাস সতীপীঠ।অট্টহাস মন্দিরে পাথরের উপর খোদাই করা হয়েছে এক ফুটের দন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তি। শোনা যায় ওই মূর্তির চোখের ওপর কেউ বেশিক্ষণ চোখ রাখতে পারতেন না। এই কারণে কেতুগ্রামের অট্টহাসে আজও প্রকাশ্যে আনা হয় না দেবীর আসল রূপ। অন্তরালেই থাকেন অট্টহাসের দেবী দন্তুরা চামুণ্ডা।
মূর্তির একটি আলোকচিত্র মহিষমর্দিনী মূর্তির পাশে রেখে পুজো করা হয়। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কেতুগ্রামের অট্টহাস। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, এই স্থানে পড়েছিল সতীর ঠোঁট। যে কারণে এই স্থানকে সতীপিঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উত্তরে ঈশাণী নদী আর কিছুদূরে শ্মশান, এই শক্তিপীঠকে নিরিবিলি পরিবেশ দিয়েছে। এখানে আজও গাছে গাছে হরেক পাখি দেখা যায়। অট্টহাসে গেলে শুনতে পাবেন গ্রাম্য পরিবেশ পেঁচার ডাক ও প্রতিটি প্রহরে শিয়ালের ডাক।বর্তমানে এই মন্দিরে রয়েছে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা।
ভোগ খাওয়ার জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা মূল্য ধার্য করা হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে। কিভাবে যাবেন এই সতীপিঠে ? ট্রেনে গঙ্গাটিকুরি বা আমোদপুর স্টেশনে নামলেও নিরোল বাসস্ট্যান্ডে যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটো বা টোটোয় চেপে মন্দিরে যাওয়া যেতে পারে। থাকার জন্য এখানে রয়েছে অতিথি নিবাস । তাই রাত্রে বাসের থাকার জন্য কোন অসুবিধা হবেনা। তাই ১ দিনের ছুটি পেলেই ঘুরে আসুন সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কেতুগ্রামের অট্টহাস থেকে।






