নিজের বেতন থেকে চাকরি ও সন্তানদের পড়াশোনা! নেপাল দুর্যোগে নিখোঁজদের পরিজনদের বড় আশ্বাস শুভেন্দুর!
নবান্নে শুভেন্দুর মুখোমুখি মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু! নেপালে নিখোঁজ স্ত্রী, কেন্দ্র ও চিন ইস্যুতে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
Truth of Bengal: নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ এ রাজ্যের অন্তত ৩৭ জন বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে কিংবা পর্যটনে গিয়ে নেপালে ধ্বংসস্তূপের কবলে পড়া সেইসব নিখোঁজ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন সভাঘরে নিখোঁজদের স্বজনদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে দুর্গত পরিবারগুলির আর্থিক সহায়তা, দ্রুত কর্মসংস্থান প্রদান এবং সন্তানদের পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নিখোঁজদের পরিজনেরা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরেন। পরিজনদের অনেকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী নিখোঁজ হওয়ায় পেনশন ও গ্যাসের সংযোগের মতো দৈনন্দিন পরিষেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া আইনি নিয়ম অনুযায়ী ৭ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ডেথ সার্টিফিকেট মেলা কঠিন। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, নেপাল সরকার ও কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকার প্রতিনিয়ত সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনা করে পরিবারগুলিকে দ্রুত সরকারি পরিষেবা দেওয়ার বন্দোবস্ত করবে রাজ্য।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও, যাঁর স্ত্রীও নেপালের দুর্যোগে নিখোঁজ। উদ্ধারকাজে কেন্দ্রের ভূমিকা ও নিখোঁজদের চিনে আটকে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে শুভ্রাংশু প্রশ্ন তুললে শুভেন্দু অধিকারী জানান, “কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। তবে চিন সীমান্ত নিয়ে সরাসরি কথা বলার এক্তিয়ার রাজ্যের নেই, নির্দিষ্ট তথ্য পেলে কেন্দ্রকে জানানো হবে।”
বৈঠকে নিখোঁজদের রুজি-রোজগার নিশ্চিতে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিখোঁজ রং মিস্ত্রি মুজিবুর মোল্লার স্ত্রী সরবানু বিবিকে দ্রুত চাকরি দিতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি বাঁকুড়ার নিখোঁজ অশোক পালের স্ত্রী জবা পালকে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের অস্থায়ী সহকারী হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করেন তিনি। উত্তরবঙ্গের সমর মণ্ডলের স্ত্রী গীতিকা সরকার মণ্ডল এবং শিলিগুড়ির অপর এক দুর্গত পরিবারকে নিজের এক মাসের পুরো বেতন তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী।
এ ছাড়া নিখোঁজ পরিবারগুলির সন্তানদের সমস্ত পড়াশোনার খরচ বহনের দায়ভার নিয়েছে রাজ্য। পরিবারগুলির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ইমেল চালু করা হয়েছে। বসিরহাটের অলৌকিকভাবে উদ্ধার হওয়া পোদ্দার দম্পতিও নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।






