কলকাতা

মহালয়ায় মহাকরণে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

২০১৩ সালে মমতা নবান্নে নিয়ে যান, ২০২৬-এ ফের রাইটার্সেই ফিরছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়!

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র কটা দিন। দেবীপক্ষের আমেজ শুরু হওয়ার আগেই রাজ্য প্রশাসনে এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় বদলের প্রহর গুনছে বাংলা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে ঐতিহ্যবাহী লালবাড়ি অর্থাৎ মহাকরণে (Writers’ Buildings) ফিরতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! পূর্ত দফতর সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর অর্থাৎ মহালয়া ও দেবীপক্ষ শুরুর আগেই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছ’জন মন্ত্রীর ঘরের সংস্কারকাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মূল সচিবালয় তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন, একই সঙ্গে মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি-সহ শীর্ষ আমলাদের দফতরও যুদ্ধের তৎপরতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মহাকরণ সংস্কারের সার্বিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সেই বৈঠকেই তিনি কড়া নির্দেশ দেন যাতে মহালয়ার আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও নবগঠিত সরকারের অন্যতম শীর্ষ মুখ দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং স্বয়ং অজয় পোদ্দার, এই ছ’জন মন্ত্রী প্রথম দফায় মহাকরণে নিজের নিজের দপ্তরে বসবেন। পাশাপাশি মহাকরণের বৃহত্তর পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপকে দেওয়া হতে পারে বলেও প্রশাসনিক অলিন্দে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্যবাহী ভবনের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দোহাই দিয়ে প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয় নবান্নে স্থানান্তরিত করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অভিযোগ, গত এক দশকেও সংস্কারের কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন করতে পারেনি বিগত সরকার। গত মে মাসে বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পরই বিজেপির তরফে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল যে, গঙ্গাপাড়ের নবান্ন নয়, বরং ইতিহাসপ্রসিদ্ধ রাইটার্স থেকেই নতুন রাজ্য সরকার পরিচালিত হবে।

অবশেষে সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের মুখে। আপাতত এতদিন নবান্নে বসেই প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। তবে এবার পুজোর মুখেই লালবাড়ির অলিন্দে ফের ফিরতে চলেছে প্রশাসনিক জৌলুস। মহালয়ার আগে শুভেন্দুর এই পদক্ষেপে নবান্ন কেন্দ্রিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ফের বিবাদী বাগের ঐতিহ্যবাহী মহাকরণে ফিরে আসছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

Related Articles