আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ব্রিকস চলাকালীন গুরুতর অসুস্থ জিনপিং, স্ট্রোকে আক্রান্ত চিনা প্রেসিডেন্ট

জল্পনার সূত্রপাত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের একটি মুহূর্ত ঘিরে

Truth of Bengal: দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন চিনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির সঙ্গে যুক্ত শিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, সম্মেলনের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শি এবং পরে তাঁকে বিশেষ বিমানে বেজিংয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর দাবির পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। বেজিংও এমন কোনও ঘটনার কথা স্বীকার করেনি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও ব্রিকসে যোগ দেওয়া নেতাদের অসুস্থতা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ‘ভুয়ো’ ও ‘ক্ষতিকর’ বলে সতর্ক করেছে।

জল্পনার সূত্রপাত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের একটি মুহূর্ত ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দেওয়ার সময় শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে সাময়িকভাবে বক্তব্য থামান এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দোভাষীর কাছে জানতে চান সব ঠিক আছে কি না। কয়েক মুহূর্ত পরে শি মাথা নেড়ে সাড়া দিলে মোদি ফের বক্তব্য শুরু করেন। ঠিক কী কারণে ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। মাইক্রোফোন বা অনুবাদ সংক্রান্ত কোনও সমস্যাও হতে পারে বলে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেদিন প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশভোজেও শি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতির কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। একটি সূত্রের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ সফরসূচির কারণে তিনি হোটেলে বিশ্রাম নিতে ফিরে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনার কয়েক দিন পর ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, শি জিনপিং দিল্লিতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এবং পরে তাঁর ‘গুরুতর ইস্কেমিক স্ট্রোক’ ধরা পড়ে। তাঁর আরও দাবি, বিশেষ বিমানে বেজিংয়ে ফেরার পর সামরিক হেলিকপ্টারে শি-কে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমনকি ভারতে চিকিৎসা করালে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় শি দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাননি বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই সমস্ত দাবির কোনও স্বাধীন যাচাই হয়নি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কমিউনিটি নোটও যুক্ত হয়েছে, যেখানে দাবিগুলির পক্ষে প্রমাণ না থাকার কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অসুস্থতার খবরও সামনে এসেছে। তবে তিনি ব্রিকস সম্মেলনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন—এমন তথ্য নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি সাময়িকভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে বিরতি নিয়েছেন। তাঁর অসুস্থতার প্রকৃতি বা তীব্রতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে শি জিনপিংয়ের ‘স্ট্রোক’, হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের দাবি এখনও সম্পূর্ণ অযাচাইকৃত। চিনা সরকারের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য না আসা এবং ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের সতর্কবার্তার পর এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার কোনও ভিত্তি নেই।