ফের ডিম হামলার শিকার মহুয়া, ভিডিও করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ‘ধন্যবাদ’ সাংসদের
"বুকে বুলেটের বদলে ডিম খাচ্ছি!", সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে নাম করে বিঁধলেন ক্ষুব্ধ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ
Truth of Bengal: কৃষ্ণনগরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই ফের একবার চরম হেনস্থা ও আক্রমণের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার তাঁর নির্বাচনী এলাকার একটি কর্মসূচিস্থলে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বেরই নয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির মন্তব্যকেও টেনে এনে তীক্ষ্ণ শ্লেষে বিঁধলেন মহুয়া। ভিডিও বার্তায় কড়া সুরে তিনি জানান, আদালতের পরামর্শ মতোই তিনি এখন থেকে কেবল একজন সাংসদ নন, বরং ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’!
মহুয়ার দাবি, বুধবার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি মেনে তিনি এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে পুলিশও উপস্থিত ছিল। কিন্তু কর্মসূচিস্থলে ঢোকামাত্রই স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারী-সহ প্রায় ৭ থেকে ১০ জন হামলাকারী তাঁর দিকে ডিম ছুড়তে থাকে। সাংসদের অভিযোগ, ঘটনা ঘটার পর আরও পুলিশকর্মী সেখানে পৌঁছালেও তাঁরা দুষ্কৃতীদের আটক না করে উল্টে তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে দেন। মহুয়ার কটাক্ষ, “পশ্চিমবঙ্গে এখন এই রাজ্য পুলিশি ব্যবস্থার খেলা চলছে! পুলিশ বিজেপি বিক্ষোভকারীদের সামলানোর বদলে আমাকেই এমনভাবে গাড়িতে তুলল যেন আমিই সবকিছুর জন্য দায়ী।”
এই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে উদ্দেশ্য করে সোচ্চার হন মহুয়া মৈত্র। প্রসঙ্গত, গত আগস্টে নদিয়ার কালীগঞ্জে একইরকম ডিম-হামলার আশঙ্কায় সশরীরে থানায় হাজিরা এড়িয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিলেন মহুয়া। তবে সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেছিলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে বুলেট খেয়েছেন, আর আপনি সামান্য এই নিয়ে কোর্টে আসছেন?”
বুধবারের ঘটনার পর সেই বিচারপতির মন্তব্য তুলে ধরে মহুয়া ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘হ্যালো, মাননীয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। আপনার পরামর্শ মতোই আমি গুলির মতো ধেয়ে আসা ডিমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। মাই লর্ড, আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ!” নেটমাধ্যমে তিনি আরও লেখেন, “মাই লর্ড, আমি স্বাধীন ভারতের একজন সাংসদ এবং আপনার কথায় এখন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীও! সংবিধান প্রদত্ত এমন সুরক্ষার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” মহুয়ার এই অভিযোগের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কৃষ্ণনগর কেন্দ্র-সহ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে।





