ভ্রমণ

বর্ধমানের বৈদ্যপুরে ১৫৫০ সালের প্রাচীন স্থাপত্য দেখে অবাক হবেন আপনিও

ইটের তৈরি মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে অপূর্ব কারুকাজ

Truth of Bengal: পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র, নদনদী, অনেক হল, ঐতিহ্যর খোঁজে এবার যাওয়া যাক বর্ধমানে। পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনা এক প্রাচীন জনপদ। সেখান থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম বৈদ্যপুরে রয়েছে জোড়া দেউল। ২টি জোড়া দেউল একসঙ্গে জোড়া, যা সত্যি অভিনব। আকারে বড়ো মন্দির পূর্বমুখী আর ছোট মন্দিরটি উত্তরমুখী। ইটের তৈরি মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে অপূর্ব কারুকাজ। পূর্বমুখী বড়ো দেউলের ইটের তৈরি দেওয়ালের গায়ে খোদাই করা হয়েছে রামায়ণে বর্ণিত রাম রাবণের যুদ্ধ। এক সময় বৈদ্যপুরে ছিল নন্দী পরিবারের জমিদারি। নুন, শস্য, ধান ও লেবুর ব্যবসা ছিল নন্দী পরিবারের। ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জোড়া দেউল ১৫৫০ সালে নির্মিত। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনে বৈঁচীগ্রাম স্টেশন থেকে যাওয়া যায় বৈদ্যপুর। সড়ক পথে বৈঁচী-কালনা রোডের ওপর পড়ে বৈদ্যপুর।
ভারতের বাকি রাজ্যে পাথরের তৈরি মন্দির পাওয়া যায়।

কিন্তু নদীমাতৃক বাংলায় পাথর সেভাবে পাওয়া যেত না। মাটি দিয়ে তৈরি পোড়ামাটির ইট গাঁথা মন্দির নির্মাণে সহজ বিকল্প হয়ে ওঠে। পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনার বৈদ্যপুরের মতো পশ্চিম বর্ধমানে ইস্পাতনগরী দুর্গাপুরের কাছে রয়েছে দেউল পার্ক। এপারে বর্ধমান জেলার দেউল আর অন্যপাড়ে বীরভূম। রাগ গড়ের রাজা ইছাই ঘোষের স্মৃতিতে ইছাই স্তম্ভ রয়েছে।
প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে দেউলের। গোপরাজ ঈশ্বর ঘোষকে স্থানীয় বাসিন্দারা চিনতেন ইছাই ঘোষ হিসাবে। এক সময় রাজা কর্ণসেনকে যুদ্ধে পরাস্ত করেন গোপরাজ ইছাই ঘোষ। যুদ্ধে জিতে তিনি দখল করে নেন কর্ণসেনের রাজধানী ত্রিষষ্ঠী গড়। পরে কর্ণসেনের ছেলে লাউসেনের হাতে নিহত হন গোপরাজ ইছাই ঘোষ। তাঁর স্মৃতিতে ইছাই ঘোষের স্তম্ভ গড়ে ওঠে। দুর্গাপুরের কাছে প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছে দেউল। গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া সুবিধার। পানাগড়ের দার্জিলিং মোড়ে নেমে চোদ্দ মাইলের বাস ধরে পৌঁছে যেতে পারেন দেউলে। শহরের নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে দেউল। পিচের রাস্তা ছেড়ে বনের রাস্তা ধরলেই দেখা মিলবে গ্রামবাংলার দৃশ্য।