খেলা

Sangita Basfore: আমার অধরা স্বপ্ন সফল করেছে সঙ্গীতা : বিজয় বাসফোর

Truth of Bengal: সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: শিল্পাঞ্চল কল্যাণী ও তাঁর পাশ্ববর্তী অঞ্চল থেকেই একটা সময় কলকাতা ময়দানে উঠে এসেছিলেন একঝাঁক প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার। সেই তালিকায় ছিলেন দেবজিৎ ঘোষ, সুরজিৎ বসু, সুমন দত্ত, বিজয় বাসফোর-রা। এবার এদের নামের পাশে আরও একজনের নাম শোভা পাবে। তিনি হলেন বর্তমান ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য সঙ্গীতা বাসফোর। গত শনিবার থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এএফসি কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দুরন্ত দুটি গোল করেছেন কল্যাণীর বঙ্গ তনয়া। যাঁর গোলেই ভারত ম্যাচ জিতে এই প্রথম এএফসি-র মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সঙ্গীতার (Sangita Basfore) এই অভাবনীয় পারফরম্যান্স অন্য সকলের মত আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন ময়দানের প্রাক্তন ফুটবলার বিজয় বাসফোর।

[আরও পড়ুনঃ Bihar shootout: ফের বিহারে প্রকাশ্যে গুলি! খুন বেসরকারি স্কুল মালিক]

একটা সময় বিজয় মোহনবাগান জার্সি গায়ে ময়দানে দাপিয়ে খেলেছেন। কিন্তু বিজয়ের আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পাওয়ায়। সঙ্গীতা পেরেছেন। আর আনন্দে চোখের জল মুছছেন বিজয়।(Sangita Basfore)

প্রিয় ছাত্রী সঙ্গীতার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বিজয় বলেন, ‘জানেন খুব অভাবের সংসার সঙ্গীতাদের। মা স্থানীয় গান্ধি হাসপাতালে সামান্য আয়ের চাকরি করেন। তা দিয়েই ওদের সংসার চলে। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেও সঙ্গীতা আজ যে সাফল্য পেয়েছে তার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত, আনন্দিত। ভারতের জার্সি গায়ে ও মাঠে খেলছে এটা ভাবতেই আমার দু’চোখ বেয়ে জল পড়তে থাকে। ভাবতে পারছি না এই মেয়েটাই আমাদের সেই ছোট্ট সঙ্গীতা। আমি মোহনবাগানে খেললেও, জাতীয় দলের হয়ে কোনওদিন খেলতে পারিনি। সঙ্গীতা আমার সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে। সুতরাং এর থেকে বেশি আনন্দ আর কিছু হতে পারে বলে আমার জানা নেই।’(Sangita Basfore)

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]

সঙ্গীতাদের অভাবের সংসার। মায়ের সামান্য আয়, তাদের সংসারের অন্যতম ভরসা। সেই প্রতিকূলতাকে দূর করে সঙ্গীতা কিভাবে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরল তা বলতে গিয়েই বিজয় বলেন, ‘তখন আমরা গান্ধি হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠে অনুশীলন করতাম। একদিন হঠাৎ দেখলাম সঙ্গীতা পাড়ার স্থানীয় বাচ্চাদের সঙ্গে খালি পায়ে ফুটবল খেলছে। এবং প্রথম সাক্ষাতেই ওর খেলা আমার ভাল লেগেছিল। ভেবেছিলাম, যদি মেয়েটাকে তৈরি করা যায়, তাহলে হয়ত বড় ফুটবলার হয়ে উঠবে একদিন। তারপর ওর বাড়িতে গিয়ে ওর মাকে রাজি করাই। প্রথমে আপত্তি থাকলেও, পরে সঙ্গীতার মা রাজি হন। তারপর থেকে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে ওর বড় ফুটবলার হয়ে ওঠার লড়াই শুরু হয়। আমার মনে হয়, এতদিনে সঙ্গীতার হাড় ভাঙা পরিশ্রম আজ কিছুটা হলেও স্বার্থক হয়েছে। আমার মত হয়ত ওর মা-ও আজ আনন্দে আত্মহারা। আজ সঙ্গীতা শুধু কল্যাণীর নয়, গোটা বাংলার গর্ব।’

Related Articles