বার্সার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নিউক্যাসল, ৭ গোলের দাপটে কোয়ার্টার ফাইনালে কাতলান ক্লাব
ম্যাচের ৬১ মিনিটে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেলের মুখে তখন শুধুই হতাশার ছাপ।
Truth Of Bengal: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ রাতে ক্যাম্প ন্যু যেন একতরফা ফুটবলের মঞ্চে পরিণত হল। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল বার্সেলোনা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অনায়াসেই শেষ আটে পৌঁছে গেল কাতালানরা।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেলের মুখে তখন শুধুই হতাশার ছাপ। ছয় গোল হজম করার পরও তাঁর করার কিছুই ছিল না। বার্সেলোনার ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে একেবারেই অসহায় দেখিয়েছে ইংলিশ দলটিকে। ৭২ মিনিটে আরও একবার বল জালে জড়াতেই সেই হতাশা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দলে।
অথচ প্রথমার্ধের চিত্র ছিল ভিন্ন। পাঁচ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে বিরতিতে ৩-২ এগিয়ে ছিল বার্সা। নিউক্যাসলও পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপে ফেলেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টদের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলে তারা। বিরতির পর একের পর এক ভুলে আরও চার গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় এডি হাউয়ের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের বন্যা। ৬ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে অ্যান্থনি এলাঙ্গা জোড়া গোল করে সমতায় ফেরান নিউক্যাসলকে। তবে যোগ করা সময়ে লামিনে ইয়ামালের পেনাল্টি গোল আবারও এগিয়ে দেয় বার্সাকে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে আর পেছনে তাকাতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ফারমিন লোপেজের গোলের পর রবার্ট লেওয়ানডস্কি আরও দু’বার বল জালে জড়ান। শেষ দিকে রাফিনিয়ার আরেকটি গোল ম্যাচের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই ম্যাচে একাধিক রেকর্ডও গড়েছে বার্সা শিবির। লেওয়ানডস্কি চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪০টির বেশি ভিন্ন দলের বিরুদ্ধে গোল করে নতুন নজির স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, লামিনে ইয়ামাল সবচেয়ে কম বয়সে ১০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন।
শেষ পর্যন্ত, দুর্দান্ত আক্রমণ, নিখুঁত পরিকল্পনা আর ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং— সব মিলিয়ে বার্সেলোনা বুঝিয়ে দিল, তারা আবারও ইউরোপের মঞ্চে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।






