দেশ

এপ্রিল থেকে এটিএম-এ টাকা তোলায় বড় বদল! পকেটে টান পড়বে গ্রাহকদের?

সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন এবং বাজেটের ওপর এই নতুন নিয়মগুলি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

Truth of Bengal: ১ এপ্রিল থেকে এটিএম থেকে টাকা তোলার নিয়মে বড়সড় বদল আনল দেশের একাধিক প্রথম সারির ব্যাংক ও পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এইচডিএফসি ব্যাংক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং জিও পেমেন্ট ব্যাংক তাদের পরিষেবায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন এবং বাজেটের ওপর এই নতুন নিয়মগুলি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এইচডিএফসি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জানিয়েছে যে, এখন থেকে এটিএম-এ ইউপিআই ভিত্তিক নগদ টাকা তোলাকেও মাসিক বিনামূল্যে লেনদেনের সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগে এই ধরনের লেনদেন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও, ১ এপ্রিল থেকে এটি গ্রাহকের জন্য নির্ধারিত মাসিক ফ্রি ট্রানজ্যাকশন লিমিটের মধ্যেই গণনা করা হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিনামূল্যে লেনদেনের নির্দিষ্ট সীমা পেরিয়ে গেলে প্রতিবার টাকা তোলার জন্য ২৩ টাকা করে চার্জ দিতে হবে, যার সঙ্গে প্রযোজ্য কর আলাদাভাবে যুক্ত হবে। বর্তমানে এইচডিএফসি ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজস্ব এটিএম-এ মাসে ৫টি এবং অন্য ব্যাংকের এটিএম-এর ক্ষেত্রে মেট্রো শহরগুলিতে ৩টি ও নন-মেট্রো এলাকায় ৫টি ফ্রি ট্রানজ্যাকশন পেয়ে থাকেন। এখন থেকে ইউপিআই এবং সাধারণ কার্ড ট্রানজ্যাকশন মিলিয়েই এই হিসাব রাখা হবে।

অন্যদিকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক নির্দিষ্ট কিছু ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে দৈনিক টাকা তোলার সর্বোচ্চ সীমায় কাটছাঁট করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকরা তাদের কার্ডের ধরন ভেদে দিনে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। এর আগে এই সীমা অনেক ক্ষেত্রে বেশি ছিল। উদাহরণস্বরূপ, রুপে এনসিএমসি প্ল্যাটিনাম ডোমেস্টিক ডেবিট কার্ডের দৈনিক লিমিট ১ লক্ষ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে রুপে এনসিএমসি প্ল্যাটিনাম ইন্টারন্যাশনাল এবং রুপে উইমেন পাওয়ার প্ল্যাটিনাম ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রেও।

পাশাপাশি গ্রাহকদের সুবিধার্থে একটি নতুন পরিষেবা চালু করেছে জিও পেমেন্ট ব্যাংক। এখন থেকে গ্রাহকরা তাদের বিজনেস করেসপন্ডেন্ট টাচপয়েন্টগুলোতে গিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে এবং ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে অথোরাইজ করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন। ব্যাংকিং পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অতিরিক্ত মাশুল এড়াতে গ্রাহকদের উচিত প্রতি মাসের শুরুতেই তাদের এটিএম ট্রানজ্যাকশনের সংখ্যার ওপর নজর রাখা।