ইংরেজির শিক্ষিকা থেকে সোজা ফেরারির চালক! প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন কে এই ডায়ানা?
প্রয়াত বাবার স্বপ্নপূরণ! ইয়াস মারিনা থেকে বাহরিন, রেসিং দুনিয়ায় ভারতের বিজয় নিশান ওড়ালেন পুণের কন্যা!
Truth of Bengal: যেমন রূপ, তেমনই তাঁর অদম্য গুণ! গতির দুনিয়ায় ঝড় তুলে ইতিহাস গড়লেন ভারতের এক সাহসী কন্যা। স্টিয়ারিং হাতে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ফেরারি ছুটিয়ে রেসিং ট্র্যাকে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে নজির গড়েছেন তিনি। কথা হচ্ছে মহারাষ্ট্রের পুণের বাসিন্দা ডায়ানা পুন্ডোলের (Diana Pundole)। একদা ইংরেজির শিক্ষিকা এবং বর্তমানে দুই সন্তানের জননী ডায়ানা নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে ভর করে আজ বিশ্ব মোটরস্পোর্টের এক অন্যতম অনুপ্রেরণা। দুই সন্তানের মাতৃত্ব ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলেও আন্তর্জাতিক রেসিংয়ের মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি।
মহারাষ্ট্রের পুণের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম ডায়ানার। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের বিপুল উৎসাহে গো-কার্টিং, টেনিস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের মতো একাধিক খেলাধুলায় নিজেকে পারদর্শী করে তুলেছিলেন। সেই শুরুর দিকের কঠোর শরীরচর্চাই তাঁর মধ্যে গড়ে তুলেছিল এক অপরাজেয় প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা। তবে তাঁর রেসিং ট্র্যাকে আসার গল্পটা ছিল বেশ অপ্রত্যাশিত। ২০১৮ সালে একটি মোটরস্পোর্ট ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান তিনি। প্রায় ২০০ জন অভিজ্ঞ প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে নিজের মেধার জোরে সেরা ছ’জনের তালিকায় জায়গা করে নেন ডায়ানা। এর পর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০২৪ সালে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কার রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করার পর ভারতের উদীয়মান মহিলা রেসারদের জন্য এক অনন্য আইকন হয়ে ওঠেন তিনি। মাতৃত্বের কঠিন দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের মেলবন্ধনে ডায়ানা আজ আন্তর্জাতিক স্তরের এক সফল রেসার।
ফেরারি চ্যালেঞ্জে বিশ্বজয়, বাবার স্মৃতিই আজকের মূল অনুপ্রেরণা
ডায়ানার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ফেরারি চ্যালেঞ্জ মিডল ইস্ট’-এ রেস করার গৌরব অর্জন করেন। এটি এমন এক ‘ওয়ান-মেক চ্যাম্পিয়নশিপ’ যেখানে সব প্রতিযোগীকে একই মডেলের গাড়ি চালাতে হয়, অর্থাৎ জয় সম্পূর্ণ নির্ভর করে চালকের নিজস্ব দক্ষতার ওপর। সেখানে ‘ফেরারি ২৯৬ চ্যালেঞ্জ’ গাড়িটি চালিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক রেসেই বিশ্বমঞ্চকে চমকে দেন ডায়ানা। বিখ্যাত ইয়াস মারিনা সার্কিটে চতুর্থ স্থান এবং পরবর্তীতে বাহরিনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তিনি আন্তর্জাতিক রেসারদের ঘুম উড়িয়ে দেন।

ডায়ানা জানান, মোটরস্পোর্টের প্রতি তাঁর এই গভীর ভালবাসার সূচনা হয়েছিল তাঁর প্রয়াত বাবার হাত ধরেই, যাঁর স্মৃতি আজও তাঁকে ট্র্যাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। আন্তর্জাতিক এই যাত্রায় দুটি বড় সংস্থাও তাঁকে স্পনসরশিপ দিয়ে সাহায্য করেছে। ইতিহাস গড়ে ডায়ানা বলেন, “প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ফেরারি চ্যালেঞ্জের অংশ হতে পারা কেবল আমার একার নয়, সমগ্র ভারতীয় নারী সমাজের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” ডায়ানার এই রূপকথা প্রমাণ করে যে, অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে জীবনের যে কোনও পর্যায়েই যে কোনও অপ্রত্যাশিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।


