মাঠে নামতেই বদলে গেল খেলা! মেসির ম্যাজিক ফ্রিকিকে জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে জর্ডন যে বড় বাধা হয়ে উঠবে না, তা অনুমান করাই গিয়েছিল
Truth of Bengal: আর্জেন্টিনা – ৩
জর্ডন – ১
গোল: আর্জেন্টিনা—সেলসো, মার্তিনেজ, মেসি। জর্ডন—আল তামারি।
বেঞ্চে বসে হাসি-মজা করছিলেন লিয়োনেল মেসি। করারই কথা। তাঁকে ছাড়াই জর্ডনের বিরুদ্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে জর্ডন যে বড় বাধা হয়ে উঠবে না, তা অনুমান করাই গিয়েছিল। কিন্তু সতীর্থদের কিছুটা গা ছাড়া মনোভাব শেষ পর্যন্ত মেসিকে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে দিল না। মাঠে নামতেই নিজের ছাপ রেখে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন কীর্তি গড়লেন তিনি। গ্রুপ পর্বের বেশ কিছু ম্যাচের মতো আর্জেন্টিনা-জর্ডন লড়াইটিও একপেশে হয়ে যেতে পারত। প্রথমার্ধের খেলা অন্তত সেই দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার রক্ষণে ঢিলেমি এবং জর্ডনের পাল্টা আক্রমণ ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। ব্যবধান কমাতেই আর ঝুঁকি নেননি কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। ৬০ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ়কে তুলে নামিয়ে দেন মেসিকে। বার্তা ছিল স্পষ্ট—বিশ্বকাপে কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝমাঠ পর্যন্ত তেমন কোনও চাপই তৈরি করতে পারেনি জর্ডন। নিজেদের বক্সের সামনে আট-ন’জন ফুটবলার নিয়ে জমাট রক্ষণ গড়ে তুলেছিল তারা। কিন্তু ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আটকাতে বারবার ফাউলের পথ নিতে হয় জর্ডনের খেলোয়াড়দের। শেষ পর্যন্ত সেই ফাউলেরই চড়া মাশুল দিতে হয় তাদের। আর্জেন্টিনার তিনটি গোলই আসে ফাউল থেকে পাওয়া সুযোগের সূত্র ধরে।১৯ মিনিটে প্রথম গোল পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল তারা। সেই ফ্রিকিক থেকেই গোল করেন সেলসো। জর্ডনের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা প্রথমে দুই পা এগিয়ে কিছুটা বাঁদিকে সরে যান। তিনি যদি নিজের জায়গায় থাকতেন, হয়তো বলটি ঠেকানো সম্ভব ছিল। কিন্তু ভুল পজিশন নেওয়ায় আর কিছু করার ছিল না তাঁর। ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান মার্তিনেজ়। তাঁর প্রথম শট বারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হেড করতে যান সেনসি। সেই প্রচেষ্টা বাঁচিয়ে দেন জর্ডনের গোলরক্ষক। কিন্তু হেড করার সময় জর্ডনের এক ফুটবলারের পা সেনসির মাথায় লাগে। ‘ভার’-এর পরামর্শে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। জর্ডনের গোলরক্ষককে ডান দিকে ঝাঁপাতে বাধ্য করে বাঁ দিকে জোরালো শটে গোল করেন মার্তিনেজ।
![]()
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে ফ্রিকিক নেন সেলসো। সেই বল থেকে বক্সে ফাঁকায় হেডের সুযোগ পান ওটামেন্ডি। তবে তাঁর হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আগ্রাসী মেজাজেই ছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে রাখেনি জর্ডন। পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন মুসা আল তামারিরা। সেই সময় আর্জেন্টিনার রক্ষণে কিছুটা শৈথিল্য দেখা যায়। ৪৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আল তামারি। কিন্তু ৫৫ মিনিটে আর ভুল করেননি তিনি। ডান দিক থেকে ইসান হাড্ডাডের ক্রশে ছ’গজের বক্সে পা ছুঁইয়ে গোল করেন আল তামারি। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়ের কিছু করার ছিল না। জর্ডনের ওই ১৫ মিনিটের ফুটবল আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন ঢিলেমি বিপদ ডেকে আনতে পারে। নকআউট পর্বের আগে এই জায়গা নিয়েই ভাবতে হবে স্কালোনিকে।
জর্ডন গোল করার পরই পরিবর্তনে যান আর্জেন্টিনার কোচ। ৬০ মিনিটে মেসির সঙ্গে মাঠে নামেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং থিয়াগো আলমাডা। আক্রমণে আবার ঝাঁজ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। চাপ বাড়তেই জর্ডনের ফুটবলাররা ফের ফাউল করতে শুরু করেন। ৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পান মেসি। তবে তাঁর শট বেশ খানিকটা উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। কিন্তু ৮০ মিনিটে আর ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বক্সের ঠিক বাইরে তাঁকে ফাউল করে জর্ডন। নিজেই ফ্রিকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। এবার নিখুঁত বাঁ পায়ের শটে জর্ডনের গোলরক্ষককে কার্যত নড়ার সুযোগ না দিয়ে তাঁর ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলেই আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয় ৩-১ ব্যবধানে। ম্যাচের ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রত্যাশিত হলেও দ্বিতীয়ার্ধের কয়েক মিনিট তাদের সতর্কবার্তা দিয়ে গেল। আর মেসি? বেঞ্চ থেকে নেমে আবারও বুঝিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে তাঁর একটুখানি উপস্থিতিই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে।





