ডাচদের অভিশপ্ত পেনাল্টি ভাগ্য! নেদারল্যান্ডসকে কাঁদিয়ে টাইব্রেকারে ফের ইতিহাস মরক্কোর
পেনাল্টির অভিশাপ কাটাতে ব্যর্থ ডাচরা, ট্রাজিক নায়ক থেকে রাতারাতি হিরো সাইবারি!
Truth of Bengal: গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো যে এবারও ডার্ক হর্স, তা চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে ডাচ বাহিনীর বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন, নিখুঁত পাসিং আর মাঝমাঠের দখল নিয়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে আফ্রিকান দেশটি। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট পর থেকে ডাচ বাহিনীকে মাঠের কোথাও খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্রাহিম দিয়াজরা মাঝমাঠ থেকে একের পর এক নিখুঁত বল বাড়িয়ে দিলেও মরক্কোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ফরোয়ার্ডদের জঘন্য ফিনিশিং। মরোক্কান স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারি প্রথমার্ধেই সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে অন্তত তিনটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ফলে হাকিমিদের একাধিপত্য সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।
সন্তান হারানোর শোক ভুলে গাকপোর ম্যাজিক, ম্যাচের মোড় ঘোরাল কোচের মগজাস্ত্র
দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কোর আক্রমণের ধার বজায় থাকলেও ৬৫ মিনিটের পর থেকে ধীরে ধীরে মরণকামড় দিতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ঠিক তখনই ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি উপহার দেন ডাচ তারকা কোডি গাকপো। এই মেগা ম্যাচের ঠিক আগেই নিজের অনাগত সন্তানকে হারিয়েছিলেন তিনি। সেই গভীর ব্যক্তিগত শোক বুকে চেপেই ৭২ মিনিটে এক দর্শনীয় গোলে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গাকপো।
ডাচ সমর্থকেরা যখন কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮৮ মিনিটে মাস্টারস্ট্রোক দেন মরক্কোর কোচ। সুপার-সাব হিসেবে তিনি মাঠে নামান তালবিকে। মাঠে নামার ঠিক তিন মিনিটের মাথায় (৯১ মিনিটে) তালবির চোখধাঁধানো পাস থেকে গোল করে মরক্কোকে ১-১ সমতায় ফেরায় আফ্রিকান ব্রিগেড। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও মরক্কো সুযোগ নষ্টের মহড়া জারি রাখলে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় পেনাল্টি শুটআউটে।
পেনাল্টির অভিশাপ কাটাতে ব্যর্থ ডাচরা, ট্রাজিক নায়ক থেকে রাতারাতি হিরো সাইবারি!
পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের ট্র্যাক রেকর্ড বরাবরই অভিশপ্ত। গত তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দুটিতেই তারা টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার মেক্সিকোর মাটিতেও সেই ভূত তাড়া করল কমলা বাহিনীকে। দুই দলেরই পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা এতটাই নড়বড়ে ছিল যে শুটআউটের ১০টি শটের মধ্যে ৫টি শটই মিস হয়! দুই দলের স্নায়ুর যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে মরক্কোর হয়ে মরণবাঁচন শটটি মারতে আসেন ইসমাইল সাইবারি, যিনি পুরো ম্যাচে তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে ভিলেন বনে গিয়েছিলেন। তবে এবার আর কোনও ভুল করেননি সাইবারি। তাঁর নেওয়া জোড়ালো শট ডাচ জাল কাঁপাতেই ডাচদের বিদায় করে উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কো শিবির।






